ইরানে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে মিশর, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বৈঠকে বসেন। তবে আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইরানের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো আলোচনাসঙ্গী খুঁজে না পাওয়া।
আরব কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকের আগেই ইসরাইলের হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি নিহত হন, যিনি পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনায় সক্ষম একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
এ অবস্থায় মিশরের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সঙ্গে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খুলতে সক্ষম হন। তারা সংঘর্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ করে পাঁচ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন, যাতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আস্থা তৈরি করা যায়।
এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা পর্যন্ত প্রভাব ফেলে। শনিবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন, অন্যথায় দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দেন।
তবে রিয়াদের আলোচনার খবর হোয়াইট হাউসে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। সোমবার সকালে ট্রাম্প তার অবস্থান পরিবর্তন করে কূটনৈতিক আলোচনার পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেন এবং সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত করেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হওয়া একাধিক গোপন বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা দেখিয়েছে। একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় এনে ট্রাম্প ও তার কিছু উপদেষ্টা দ্রুত এই সংঘাতের অবসান চান বলেও জানা গেছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।