মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে তেলের দাম।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৬৯ ডলার বা ১.৫ শতাংশ কমে ১০৮.১৮ ডলারে নেমে এসেছে। আগের দিনও এই তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছিল। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দাম ১.৬৭ ডলার বা ১.৬ শতাংশ কমে ১০০.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে এবং ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, সম্ভাব্য চুক্তি হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এই অবরোধের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয় এবং গত সপ্তাহে ব্রেন্ট তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে টানা তৃতীয় সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে। ১ মে পর্যন্ত মজুত প্রায় ৮.১ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে, পাশাপাশি পেট্রোল ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সব মিলিয়ে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনার কারণে বাজারে স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি ফিরলেও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এসআর