৬৬ বছরেরও বেশি সময় আকাশে কাটানোর পর অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জোয়ান প্রিন্স ক্র্যান্ডাল, যাকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘসময় কর্মরত ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বলে মনে করে তার প্রতিষ্ঠান ডেল্টা এয়ার লাইন্স।
একসময় স্টুয়ার্ডেস বা বিমানবালা নামে পরিচিত এ পেশায় ১৯৫৯ সালে যোগ দেন জোয়ান। তখন তিনি প্যাসিফিক এয়ারলাইন্সে কাজ শুরু করেন। তার কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল ডগলাস ডিসি-৩ উড়োজাহাজে, যেখানে যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ২৪ জন।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোয়ান বলেন, ‘স্টুয়ার্ডেস থেকে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট—এটাই ছিল আমার পুরো ক্যারিয়ার।’
তিনি স্মরণ করেন, সেই সময় এয়ারলাইন্সগুলো গ্ল্যামারাস চেহারার তরুণীদের নিয়োগ দিত। উচ্চ হিল, ফ্যাশনেবল পোশাক এবং আভিজাত্যপূর্ণ সেবা তখনকার বিমানসেবিকার পরিচয়ের অংশ ছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে পেশাটির ধরনও। বর্তমানে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের শুধু খাবার ও পানীয় পরিবেশন নয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় দায়িত্ব। দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া, জরুরি সরঞ্জাম পরিচালনা এবং সংকট মোকাবিলায় তারাই প্রথম সারিতে কাজ করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে জোয়ান একাধিক এয়ারলাইন্সে কাজ করেছেন। প্যাসিফিক এয়ারলাইন্সের পর তিনি এয়ার ওয়েস্ট, হিউজ এয়ারওয়েস্ট, রিপাবলিক এয়ারওয়েজ, নর্থওয়েস্ট এবং সর্বশেষ ২০০৮ সাল থেকে ডেল্টা এয়ার লাইন্সে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত।
জোয়ান জানান, কর্মজীবনের শুরুর দিকে বিমানসেবিকাদের ওপর কঠোর নিয়ম ছিল। কিছু এয়ারলাইন্সে ওজন ও চেহারা নিয়ে বিধিনিষেধ থাকত, বিয়ে করলে চাকরি ছাড়তে হতো এবং ৩২ বছর বয়সে বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে হতো।
যদিও তিনি বলেন, নিজের কর্মস্থলে চেহারা নিয়ে সমস্যায় পড়েননি, তবে বিয়ে ও বয়সসংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়টি তিনি ভালোভাবেই মনে করতে পারেন।
এখন অবসরের আগে নতুন প্রজন্মের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি ডেল্টার ইন-ফ্লাইট ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করা নতুন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আলিসে ব্রুসার্ডের সঙ্গে দেখা করেন জোয়ান। মুহূর্তটিকে তিনি ‘ডেজাভু’ বলে উল্লেখ করেন।
আলিসে বলেন, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিল মানুষের সঙ্গে আবেগপূর্ণ সংযোগ তৈরি করা।
জোয়ান বলেন, তার কর্মজীবনে বিমান চলাচলে বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি কাজ শুরু করার এক দশকের মধ্যেই মানুষ চাঁদে পৌঁছেছে এবং বোয়িং ৭৪৭-এর মতো আধুনিক উড়োজাহাজ এসেছে। বর্তমানে ডেল্টার এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ বিমানে ৩০৬ জন যাত্রী বহন করা যায়, যা তার শুরুর সময়কার বিমানের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির এত উন্নতির মধ্যেও কিছু বিষয় বদলায়নি—যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পৃথিবীর সঙ্গে তাদের সংযুক্ত করার দায়িত্ব।
অবসরের পর জোয়ান একটি বই লেখার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি তিনি ভ্রমণ চালিয়ে যেতে চান। প্যারিস, মুম্বাই ও হংকং তার প্রিয় শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে।
এমএমআর