ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫-এর নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে নিরাপদে ইরানি ভূখণ্ডের বাইরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাতের আঁধারে পরিচালিত এই অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও নাটকীয়। মার্কিন বিশেষ বাহিনী ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানোর পর শত শত সদস্যের অংশগ্রহণে অভিযান পরিচালনা করে। তীব্র গোলাগুলির মধ্যেই নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমানও অংশগ্রহণ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, তাদের বাহিনী একজন সম্মানিত কর্নেল পদমর্যাদার ক্রুকে উদ্ধার করেছে এবং তিনি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্য দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। অন্য ক্রু সদস্যকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল, যিনি ইরানে লুকিয়ে ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন বাহিনী তার অবস্থান নজরদারিতে রেখে ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে, পরে দেশটির বাইরে নিরাপদে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ট্রাম্প জানান, উদ্ধার অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়নি। কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তার অবস্থান ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখা হয়েছিল এবং উদ্ধারের পরিকল্পনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা হয়েছিল। তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ডজনখানেক বিমান বিশ্বের সর্বাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ছিল।
তবে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ক্রু সদস্য কিছুটা আহত হলেও তিনি ভালো আছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ‘এ দুটি অভিযান আমরা এমনভাবে সফলভাবে সম্পন্ন করেছি যে কোনো মার্কিন সেনা আহত বা নিহত হয়নি, যা প্রমাণ করে আমরা ইরানের আকাশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি।’
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাতে দেহদাশত শহরে সংঘর্ষ এবং কয়েকটি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার তথ্য জানা গেছে। পরবর্তী প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসআর