হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে মুহাম্মদ ও মরিয়ম নামের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকদের জনপ্রিয় নামের তালিকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত নামগুলোর অবস্থান ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে মুহাম্মদ ও মরিয়ম নামের জনপ্রিয়তা গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে চলতি বছর মুহাম্মদ নামের অবস্থান আগের বছরের তুলনায় কিছুটা নিচে নেমেছে।

গর্ভাবস্থা ও শিশু পালনবিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বেবিসেন্টার সম্প্রতি ২০২৬ সালের জনপ্রিয় শিশুর নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে মুহাম্মদ নামটি গত বছরের ১৯তম অবস্থান থেকে নেমে ৩৬তম স্থানে এসেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে নামটির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান মানেই তারা সবাই মুসলিম—এমন নয়।

২০০৫ সালে বেবিসেন্টারের তালিকায় মুহাম্মদ নামের অবস্থান ছিল ২৫৮তম। ২০২৬ সালে তা উঠে এসেছে ৩৬তম স্থানে। বেবিসেন্টারের তালিকায় প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে মুহাম্মদ নাম রাখার হার ২০০৫ সালের ৬৩৭ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৩ হাজার ৭৩৬ হয়েছে। অর্থাৎ, এ হার বেড়েছে প্রায় ৪৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ধরন ও নাম রাখার পছন্দে পরিবর্তনের বিষয়টি এসব পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে অভিবাসন বৃদ্ধির সঙ্গে দেশটিতে মুসলিম নামের উপস্থিতিও বেড়েছে।

সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের মার্চে প্রকাশিত এক গবেষণার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ২০০০ সালের প্রায় ১৮ লাখ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৪১ লাখে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ১২৮ শতাংশ।

১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদেশে জন্ম নেওয়া জনসংখ্যার মধ্যে এই গোষ্ঠীর অংশ ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার বার্ষিক সংখ্যাও ২০০০ অর্থবছরের ১ লাখ ২ হাজার ৩৬৫ থেকে বেড়ে ২০২৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৩০ হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৪৫টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের জন্য মাসিক অভিবাসী ভিসা প্রদান ও শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ২১ হাজার ৯৬ থেকে কমে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৮০৮-এ নেমে এসেছে। এই হিসাবে হ্রাসের হার ৯৬ শতাংশ।

মুহাম্মদ নামের জনপ্রিয়তায় ওঠানামা

বেবিসেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মুহাম্মদ নামের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছিল। ২০১২ সালে তালিকার ১০২তম অবস্থানে থাকা নামটি ২০১৯ সালে উঠে আসে দশম স্থানে। ওই বছর প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে নামটি রাখার হার ছিল ৩ হাজার ৮৭২।

২০২০ সাল পর্যন্ত নামটি শীর্ষ ১৫-এর মধ্যে ছিল। এরপর ২০২১ সালে ২৯তম এবং ২০২২ সালে ৩৫তম অবস্থানে নেমে আসে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আবার ১৬তম স্থানে উঠে এলেও ২০২৫ সালে ১৯তম অবস্থানে ছিল। সর্বশেষ ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে ৩৬তম স্থানে। তবে অবস্থান নিচে নামলেও নামটির ব্যবহার ২০১০-এর দশকের শুরুর তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।

মরিয়ম নামের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে

মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত মেয়েদের নাম মরিয়মের জনপ্রিয়তাও দীর্ঘমেয়াদে বেড়েছে।

২০১২ সালে বেবিসেন্টারের তালিকায় মরিয়মের অবস্থান ছিল ৩১৩তম। ২০২৬ সালে তা উঠে এসেছে ১৫১তম স্থানে। এ সময় প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে নামটি রাখার হার ৫৪৪ থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৪৪ হয়েছে।

বেবিসেন্টারের তালিকা তাদের অ্যাপ ব্যবহারকারী অভিভাবকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালের তালিকায় চলতি বছরে জন্ম নেওয়া ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি শিশুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে এই তালিকা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুর পূর্ণাঙ্গ হিসাব নয়। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের শিশুর নামের তালিকার সঙ্গে বেবিসেন্টারের র‌্যাঙ্কিংয়ে পার্থক্য থাকতে পারে।

সূত্র: দ্য ডেইলি ওয়্যার

মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প

নিউইয়র্কের ক্যাথলিক গির্জায় যাজকদের যৌন নিপীড়নের শিকার ১৩০০ জন

ট্রাম্পকে ‘নিষ্ঠুর ও দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানালেন বারাক ওবামা

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক আদালত: প্রসিকিউটর

১৫ বছর বয়সে পুরো কুরআন পড়েছেন চেলসি ক্লিনটন, বাবাকেও পড়তে বলেছেন

সূরা আল-হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে যা বললেন বিল ক্লিনটন

কেন ইলহান ওমরের নাম নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ট্রাম্প

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রথম ১০০ ঘণ্টায় ট্রাম্পের নীতি বদলাতে চান ডেমোক্র্যাটরা

ইরানে নতুন হামলার ইঙ্গিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের, ট্রাম্পের দাবি কিছুই জানেন না

যুক্তরাষ্ট্র কি আসলেই ধনী দেশ, কার জন্য কতটা সমৃদ্ধ