হোম > বিশ্ব > এশিয়া

নেপালে এত ভারতীয় তীর্থযাত্রী ভ্রমণ করছিলেন কেন

সিএনএন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর শতাধিক ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁরা মূলত কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে নেপালের মধ্য দিয়ে তিব্বতের দিকে যাচ্ছিলেন। হিমালয়ের দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে এই বার্ষিক তীর্থযাত্রায় প্রতিবছর হাজারো মানুষ অংশ নেন।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তিব্বতের কৈলাস পর্বত অত্যন্ত পবিত্র। বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি দেবতা শিবের আবাসস্থল। একইভাবে মানস সরোবর হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। সেখানে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভক্তরা সেখানে যান।

কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার গুরুত্ব শুধু হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও কৈলাস ও মানস সরোবর গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। অনেকের কাছে জীবনে অন্তত একবার এই তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করা একটি দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষা।

তবে এই তীর্থযাত্রা অত্যন্ত কঠিন। তিব্বতে পৌঁছাতে অনেক ভারতীয় তীর্থযাত্রী প্রথমে নেপালে প্রবেশ করেন। এরপর নেপালের পাহাড়ি পথ ধরে চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বত অঞ্চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উচ্চতাজনিত ঝুঁকির পাশাপাশি এই পথ বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার জন্যও বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

নেপালের রাসুয়া এলাকা কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। এই পথ দিয়েই তীর্থযাত্রীরা নেপাল থেকে তিব্বতে প্রবেশ করেন। কিন্তু বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় রাসুয়া এলাকায় নেপাল-চীন সীমান্তের মিতেরি সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি সড়কও।

বন্যায় মোবাইল ফোন ও ফাইবার যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। ফলে তীর্থযাত্রীরা ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং তাঁদের পরিবারের কাছে পরিস্থিতির খবর পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

অনেক তীর্থযাত্রী সীমান্ত পার হওয়ার অপেক্ষায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিবারের সদস্য ও ভ্রমণ আয়োজকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধানে উদ্ধার অভিযানও জটিল হয়ে উঠেছে।

কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় সাধারণত দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা, উচ্চতর অঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকা অতিক্রম করতে হয়। বর্ষাকালে হিমালয়ে ভারী বৃষ্টি হলে এসব এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।

এবারের দুর্যোগে হিমবাহের বরফ ও ভূমিধস থেকে সৃষ্ট বিপুল পানির স্রোত নদী উপত্যকায় নেমে আসে। এতে সেতু ও সড়ক ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তের সঙ্গে যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

ফলে ধর্মীয় বিশ্বাস ও বহু বছরের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কৈলাস-মানস সরোবরের পথে যাওয়া এসব ভারতীয় তীর্থযাত্রী এখন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে আটকা পড়েছেন। তাঁদের অনেকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে।

রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং লিংকন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় গাইবান্ধা ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে চার দেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ সরকারের

ইরানের পরমাণু স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ নেই: আইএইএ প্রধান

জানি না বাবা বেঁচে আছেন কি না, ছেলের হৃদয়বিদারক আকুতি

রংপুরের ফোর মার্ডার: পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি

এভাবে নিয়ম ভঙ্গ করা হলে সংসদ বেশি দিন চলবে না: স্পিকার

আপিল বিভাগে নিয়োগ পেলেন বিচারপতি হাবিবুল গনি

নেপালে আরো বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা

বোমার মতো বিস্ফোরিত হয়ে ধেয়ে আসে পানি, বললেন বেঁচে ফেরা বাহাদুর