বিশ্ববাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও মুক্ত বাণিজ্য জোরদারে নতুন করে তৎপরতা বাড়িয়েছে জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার মধ্যেও টোকিও বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপান গত এক দশকে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার পক্ষে আরও সক্রিয় হয়েছে। দেশটি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পর জাপান জিসিসির সঙ্গে এমন চুক্তি করা দ্বিতীয় জি-৭ দেশ হতে চায়।
দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসুরের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করেছে জাপান। প্রায় ২৮ কোটি মানুষের এই জোটের সম্মিলিত অর্থনীতির আকার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ব্রাজিল জাপানের দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার।
মারকোসুর থেকে জাপান কৃষিপণ্য, জ্বালানি, ধাতু ও খনিজ সম্পদ আমদানি করে। ভবিষ্যতে বিরল খনিজ, লিথিয়াম ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতেও সহযোগিতা বাড়াতে চায় টোকিও। বিপরীতে জাপান ওই অঞ্চলে গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস, রাসায়নিক পণ্য ও যন্ত্রপাতির রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ দেখছে।
ভারতের সঙ্গেও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০০০ সালের পর থেকে ভারতে জাপানের মোট বিনিয়োগ ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, তেল-গ্যাস, ওষুধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।
ইউরোপের সঙ্গেও জাপানের বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। ২০১৯ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি জাপানের বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে চাপ তৈরি করলেও একই সঙ্গে ইউরোপ, ভারত, জিসিসি ও মারকোসুরের মতো অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে টোকিওকে আরও উৎসাহিত করছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জাপান এখন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও বিস্তৃত করার কৌশল নিয়েছে।