ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি। শনিবার রাজধানীতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত সমাবেশ ঘিরে কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। দিল্লিকে দুর্গে পরিণত করতে মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য। বসানো হয় ব্যারিকেড ও কাঁটাতারের স্পাইক স্ট্রিপ। অনেকে এই পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিক্ষোভ দমাতে সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্তত সাত হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদেরও আটক করা হয়। পরবর্তীতে মমতা ও কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
বিক্ষোভ ঘিরে এদিন আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র যন্তর মন্তরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা, ব্যারিকেড ও গণপরিবহনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বন্ধ রাখা হয় দিল্লির প্রায় অর্ধশত মেট্রোরেল স্টেশন। বিক্ষোভের একদিন আগে থেকেই অন্যান্য প্রদেশ থেকে রাজধানীতে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বিচ্ছিন্ন করা হয় ইন্টারনেট সংযোগ। এই পরিস্থিতিতেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।
এর আগে দেশটির একটি গণমাধ্যম ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, এসআইআর-সম্পর্কিত অনেকগুলো সিদ্ধান্ত অন্য দুজন কমিশনারের মতামত উপেক্ষা করে জ্ঞানেশ কুমার নিজে নেন। এরপর থেকেই তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে লাউডস্পিকারে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সহিংসতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় নিষিদ্ধ জমায়েত, মিছিল, সড়ক অবরোধ ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয় এসব বার্তায়।
মেট্রোরেলের ৫৭টি স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়। যদিও পরে তা কমিয়ে ৪৫টিতে নামিয়ে আনা হয়। যানজটের আশঙ্কায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনগামী সব মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়।
এসব বাধা পেরিয়ে মাত্র অল্পকিছু বিক্ষোভকারী যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। তাদের অনেকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে সেখানে আসেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছামাত্রই পুলিশ আটক করে তাদের বাসে উঠিয়ে নেয় । আগে থেকেই বিক্ষোভকারীদের আটক করার জন্য পুলিশ সারি সারি বাস সাজিয়ে রাখে। একই সঙ্গে আটকদের রাখার জন্য জায়গাও প্রস্তুত করা হয়। এদিকে সমাবেশ ঘিরে দিল্লির সব যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদনের ওপর সুপ্রিম কোর্টে আজ রোববার শুনানি হবে।
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লির বাইরে
সিইসির পদত্যাগ দাবিতে চলমান আন্দোলন দিল্লির বাইরে বিভিন্ন রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল ব্যাঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) কর্মীরা। মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভের সময় আটক করা হয় প্রায় ৪০০ জনকে। চেন্নাইয়ের অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) ও অল ইন্ডিয়া ইয়ুথ ফেডারেশনের (এআইওয়াইএফ) কর্মীরা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান।
চণ্ডীগড়ে আম আদমি পার্টি (আপ) ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া কলকাতায় বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংহতি মিছিলের ডাক দেন। পাটনা ও হায়দরাবাদেও ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক অন্তত ৭০০০
দিল্লির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে রয়েছেনÑপশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকার। পরে মমতাসহ অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটকদের মধ্যে আরো রয়েছেনÑসিপিআই (এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, প্রবীণ বামপন্থি নেত্রী বৃন্দা কারাত, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। এছাড়া বিরোধী দলের বহু নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত সাত হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) উত্তর প্রদেশের সাবেক বিধায়ক বিক্রম সিংহের মেয়ে যশস্বিনী রাজে সিংহকেও আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়। দলটির অভিযোগ, তাকে রাস্তায় গাড়ির ভেতর থেকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আইসা সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করেছে পুলিশ। বামপন্থি সংগঠনটি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসা বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তর থেকে দক্ষিণ দিল্লির হস্তশিল্পের বাজার দিল্লি হাটে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাদের আটক করা হয়। বিক্ষোভে সংহতি জানাতে গিয়ে আটক হন অভিনেতা ইমরান খান। গতকাল মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দান থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
বিমান থেকে আটক সিজেপি নেতারা
গতকাল সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে বিমান থেকে আটক করে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয় দলটির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকেও। বিমান থেকে করা ভিডিওতে অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিতে এসেছেন। অথচ তাদের অপরাধীর মতো আটক করা হচ্ছে। এর আগে দিল্লি পুলিশ অভিজিতের সঙ্গে দেখা করে তাকে আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। আটকের প্রায় ছয় ঘণ্টা পরও অভিজিতের লোকেশন জানতে পারেনি সিজেপি। সংগঠনটি বলছে, তাদের তিন নেতাকে আটক করে আলাদা জায়গায় নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির
দিল্লিতে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে শীর্ষ নেতাদের আটক করা হলেও আন্দোলন থামবে না বলে জানিয়েছে দলটি। গতকাল এক বার্তায় সিজেপির নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে আজ রোববার দিল্লির যন্তর মন্তরের উদ্দেশে আবারো মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে আটকের আগে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা বলেন, ‘প্রথমে রাজধানীজুড়ে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এখন রাজধানীর ভেতরে থাকা নাগরিকদের এবং দিল্লির পথে থাকা মানুষদের আটক করা হচ্ছে, ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হচ্ছে। তারা বলছে, তারা ভয় পায় না; তারা বলছে, বিক্ষোভ ব্যর্থ হবে। কিন্তু সত্য সবার সামনে। যন্তর মন্তর ২.০ শুরু হয়েছে।’
সাংবাদিক ও আইনজীবীদেরও আটক
গতকাল আন্দোলনের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট ও পাতিয়ালা হাউস আদালতের বাইরে বিক্ষোভের সময় চার শতাধিক আইনজীবীকে আটক করা হয়। দুই বিক্ষোভেই অংশ নেওয়া আইনজীবী উৎকর্ষ সিনহা বলেন, ভারতীয় সংবিধানের কপি হাতে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহি দাবি করার সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। আটক আইনজীবীদের মুক্তির ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি আইনজীবী সমিতি। পরে প্রধান বিচারপতি আটক আইনজীবীদের ছেড়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে এ ঘটনার সংবাদ কাভার করতে গেলে যন্তর মন্তরের কাছ থেকে অনেক সাংবাদিককে আটক করে পুলিশ। সাংবাদিকদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের জন্য তাদের যন্ত্রপাতি পুলিশ নিয়ে নেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেস ফ্রিডম আটক সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি দাবি করে। এছাড়া সংগঠনটি বলছে, সাংবাদিকরাও সেখানে পুলিশের মতো তাদের দায়িত্ব পালন করছে।
বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের
মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় এবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। গতকাল আলপ্পুঝায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এ কথা জানান।
তিনি বলেন, সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার চলমান লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবার রাজধানী দিল্লিতে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। এই ইস্যুতে ইতোমধ্যে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি, সোমবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে জোটের নেতাদের।
‘বোবা গণতন্ত্রের প্রবক্তা মোদি’
দিল্লিতে বিক্ষোভরত তরুণ ও সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, মোদি সরকার ‘গণতন্ত্রের জননী’ ভারতকে ‘বোবা গণতন্ত্রে’ পরিণত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে খাড়গে বলেন, আটক, গ্রেপ্তার, কারাবন্দি, লাঠিপেটা কিংবা ছররা গুলি চালিয়েও ভারতের জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবে না। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণেরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আমরা স্বৈরশাসনের অধীনে বাস করছি : কেজরিওয়াল
আটকের পূর্বে ভারতের বিরোধী দল আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘এখন বিষয়টি স্পষ্ট—আমরা মোদির শাসনাধীন একটি চরম স্বৈরশাসনের অধীনে বাস করছি।’ তিনি আরো বলেন, বিমান থেকে নামার পরপরই ‘তেলাপোকাদের’ গ্রেপ্তার করা নজিরবিহীন ভীতির বহিঃপ্রকাশ।
পুলিশি পাহারায় বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কনট প্লেস মার্কেটে বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়েছিলেন ১৯ বছর বয়সি অভিজ্ঞান যাদব ও আদি শর্মা। তাদের দুজনেরই অভিযোগ, একদল লোক তাদের মারধর করে এবং ধাওয়া করে। ধাওয়া করার সময় হামলাকারীদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা সব তেলাপোকাকে গুঁড়িয়ে দেব।’ আলজাজিরাকে আদি শর্মা বলেন, ‘পুলিশ তাদের থামায়নি। রাজধানীর বুকে তারা আমাদের ধাওয়া করছে, মারধর করছে, আর পুলিশ অন্যদিকে তাকিয়ে থাকছে। আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই।’
আন্দোলনের নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্ডে
গতকাল আটকের পরই পূর্বে ধারণকৃত এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ জানায়, তার অনুপস্থিতিতে অজিঙ্ক শিন্ডে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পরবর্তী প্রতিবাদ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন। অভিজিৎ দীপকে আটকের পরই ২০ সেকেন্ডের একটি মোবাইল ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, সৌরভ দাস, রাঙ্কা ও তাকে আটক করা হয়েছে। এখন থেকে অজিঙ্ক আন্দোলন পরিচালনা করবেন।
সূত্র জানিয়েছে, ভিডিও বার্তায় দীপকে নিজেদের আটকের কথা বললেও ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি সম্ভবত আগেই রেকর্ড করা ছিল। মহারাষ্ট্র রাজ্যের আলীবাগের বাসিন্দা শিন্ডে আম আদমি পার্টির (আপ) সাবেক কর্মী। তিনি ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত গোয়া নির্বাচনে দলের হয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। পরে মহারাষ্ট্রে দলের হয়ে কাজ করেছিলেন। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর আপ-এ যোগ দেওয়ার আগে শিন্ডে আইটি খাতে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরিও ছেড়ে দেন।
শিন্ডে সিজেপি গঠনের সূচনালগ্ন থেকেই দলটির সঙ্গে যুক্ত। গত জুন ও জুলাইয়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লিতে আয়োজিত প্রতিবাদে অংশ নেন। এরপর থেকে তিনি দলের মূল কমিটির সদস্য হন। বর্তমানে শিন্ডে জাতীয় সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আটককৃতদের মুক্তি না দিলে অনশন : সোনম ওয়াংচুক
বিক্ষোভ ঘিরে আটক সবাইকে একদিনের মধ্যে মুক্তি না দিলে অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক গতকাল সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, গত শুক্রবার যখন আমি বিক্ষোভে ঐক্য ও শান্তির জন্য আবেদন জানিয়ে একটি বার্তা পোস্ট করেছিলাম, তখন কল্পনাও করতে পারিনি যে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থার মধ্যে পড়বে।
যে কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অভিযুক্ত
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই বিক্ষোভ চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম রয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারসহ ক্ষমতাসীন বিজেপির মনোনীত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভোটের ফল নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করতে এসআইআর কার্যক্রম ব্যবহার করছে বিজেপি।
গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তার অধীন কর্মকর্তাদের মতবিরোধ হয়েছিল। বাদ পড়া ভোটারের এ সংখ্যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।
বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচনি ফল নিশ্চিত করতে ভোটার তালিকা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে সরকার। এ বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমার কোনো মন্তব্য করেননি। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সিজেপির উত্থান
ভারতে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে তুলনা করার ঘটনায় মে মাসের মাঝামাঝি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ থেকে গড়ে ওঠা সংগঠনটি পরে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে।
গত ৬ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে তেলাপোকার মুখোশ পরে ও পরীক্ষার গাইড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন সিজেপির শত শত সমর্থক। তাদের দাবি ছিল, পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের তদন্ত এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
পরবর্তীতে ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলের চেষ্টা করেন ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরে ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলন স্থগিত করে সিজেপি।
গত ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে নতুন কর্মসূচি ‘যন্তর মন্তর ২.০’ ঘোষণা করে সংগঠনটি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি দেয় তারা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) অনিয়ম এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার অভিযোগে এ আন্দোলন শুরু হয়।
৩ থেকে ৮ অক্টোবর ব্যাঙ্গালুরু ও মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লিতে বামপন্থি সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতির (এআইএসএ) নেতৃত্বেও মিছিল হয়। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। সর্বশেষ গতকাল দিল্লিতে জাতীয় সমাবেশের ডাক দেয় সিজেপি। সিজেপি জানিয়েছে, এক অসাধু আমলাকে বাঁচাতে কাজ করছে বিজেপি সরকার।
এমই