কয়েক মাস সমুদ্রে অবস্থানের পর নানা বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বুধবার থাইল্যান্ডের উপকূলীয় শহর পাত্তায়ায় নোঙর করেছে। এতে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার সেনাসদস্যের বিশ্রামের জন্য এই বিরতি দেওয়া হয়েছে। এটি পাঁচ দিনের জন্য নোঙর করবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এএফপির সাংবাদিকরা জানান, তারা জাহাজটিকে দেখেছেন । বিশাল আকারের পারমাণবিক শক্তিচালিত এই রণতরিটি পাত্তায়ার কাছে লায়েম চাবাং বন্দরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নভেম্বরের পর এই প্রথম জাহাজটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য থাইল্যান্ডের মাটিতে নামার সুযোগ পাচ্ছেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ‘আব্রাহাম লিংকন’। প্রথমে এটি দক্ষিণ চীন সাগরে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। প্রায় ছয় মাস আগে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর আগেই জাহাজটির দায়িত্বের এই পরিবর্তন করা হয়।
তবে দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার কারণে জাহাজটির ভেতরের জীবনযাপন ও পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা শুরু হয়েছে। জাহাজে জীবনযাত্রার মানের অবনতি এবং সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি কয়েকজন সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এসব ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন নাবিক ও মেরিন সদস্যদের স্বাগত জানাতে থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী পাত্তায়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই মার্কিন সেনাদের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য পাত্তায়া জনপ্রিয় একটি গন্তব্য।
সমুদ্রসৈকত ও জমজমাট রাতের বিনোদনের জন্য বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় পাত্তায়া। তবে শহরটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যৌন পর্যটনকে কেন্দ্র করে সমালোচনাও রয়েছে।
পাত্তায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানিয়েছেন, শহরে সম্প্রতি যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন সেনাসদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
শহরের একটি বারের বাইরে ইতোমধ্যে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘সব মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যকে স্বাগতম। আপনাদের সেবার জন্য ধন্যবাদ।’
মেয়র জানান, জাহাজটি রোববার থাইল্যান্ড ছাড়ার আগ পর্যন্ত নাবিকদের জাহাজ থেকে পাত্তায়ায় আনা এবং পরে আবার জাহাজে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ সপ্তাহে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মেয়র বলেন, ‘তারা এখানে বিশ্রাম নিতে এসেছেন।’
তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের কাছ থেকে যাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া না হয়—এ বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তবে, মার্কিন নাবিক ও মেরিন সদস্যদের কিছু কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে জেটস্কির মতো জলক্রীড়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, থাইল্যান্ডের তুলনামূলক শিথিল গাঁজা আইন ব্যবহার করে গাঁজা গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
তবে শপিংমল থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্থাপনাসহ শহরের অন্যান্য আকর্ষণ উপভোগ করতে তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপি