নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসের কারণে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় একাধিক বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেসে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রোববার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে ভূমিধসের ফলে বুধি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে নদীর পানির স্তর বেড়ে ভাটির দিকে বন্যা দেখা দেয়।
গোর্খা জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, নদীর ভাটির দিকে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। বন্যার পানিতে কয়েকটি বাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।
পরিস্থিতি বিবেচনায় গোর্খা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নওয়ালপরাসি ও পশ্চিম নওয়ালপরাসি জেলার নদীতীরবর্তী জনবসতিগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি হেলিকপ্টার থেকেও নজরদারি চালাচ্ছেন।
আগের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি
নেপালে নতুন করে বন্যার এ ঘটনায় আগস্টের ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্মৃতি ফিরে এসেছে। সে সময় হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৪৫৭ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়। ওই বিপর্যয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
বুধি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। ফলে নদীর প্রবাহে আকস্মিক পরিবর্তন ও বন্যার পানি ভাটির জনবসতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন বন্যায় প্রাণহানির খবর না থাকলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সূত্র: আরব নিউজ ও রয়টার্স