নেপালে দ্বিতীয় দফায় বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তরি হয়েছে। অস্থিতিশীল গিরিখাতের দেয়াল এবং আংশিক ধসে পড়া হিমবাহ থেকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি)-এর হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ও জরুরি সেবা প্রদানকারী দলের সদস্যরা সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিকম্পের পর দুটি ঝুঁকিকে প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সাম্প্রতিক বন্যার পানির উচ্চতা ১০ মিটার পর্যন্ত উঠেছিল। এতে লেন্দে খোলা গিরিখাতের খাড়া পাথুরে ঢাল ও মোরেইন ঢালেরৈ ভিত্তি ব্যাপকভাবে ক্ষয় হয়েছে। পরবর্তী সময়ে স্যাটেলাইটের ছবিতে শনাক্ত হয়েছে ছোট ছোট ভূমিধসের চিহ্ন । এতে বড়ো ধরনের পাথরধস ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব ধসের কারণে আবারো নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে নিচের দিকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা গিরিখাতের দেয়ালের এই অস্থিতিশীলতাকে উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অন্যদিকে, গ্যাংভু হিমবাহের অবশিষ্ট অংশ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ঝুলন্ত হিমবাহটির কেবল একটি অংশ ধসে পড়েছে। প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট চিত্রে ধসে যাওয়া অংশে একটি খাড়া দেয়াল এবং হিমবাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার স্থানে বড়ো ধরনের ফাটল দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে, অবশিষ্ট অস্থিতিশীল হিমবাহের ঝুঁকি মাঝারি। তবে ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন বা শক্তিশালী আফটারশক হলে হিমবাহের বাকি অংশও গিরিখাতে ধসে পড়ে নতুন করে ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, চীনা ও নেপালি বিশেষজ্ঞরা রাডার স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আশপাশের হিমবাহ-উৎপন্ন হ্রদগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। ভূমিকম্পের কারণে এসব হ্রদ আটকে রাখা মোরেইন বাঁধ দুর্বল হয়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে।
লেন্দে খোলা, ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর নিম্নাঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ । আকস্মিকভাবে নতুন করে ধসের ঢল ও নদীর পানি আটকে থাকা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দলকে নদীর তীরের কাছে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা একলাফে বেড়ে ৪৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নদী অববাহিকা ও ভাটির এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারীরা লাশ ও জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করার পর এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সূত্র: দ্য হিমালয়ান
আরএ