বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদ ও কাউন্সিলর মাসুদ খলিল অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেটের আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ওয়েস্টার্ন সিডনিতে অবস্থিত রন মুর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। ২০২৭ সালের মার্চ মাসে এই রাজ্য নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
ছয়টি স্টেট এবং দুটি টেরিটরির সমন্বয়ে গঠিত কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় স্টেট হলো নিউ সাউথ ওয়েলস, সংক্ষেপে যা এনএসডব্লিউ নামে পরিচিত। এই স্টেটের রাজধানী সিডনি। সিডনির পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় অবস্থিত ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলে মাসুদ খলিল দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নির্বাচিত একজন স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের মাঝে মাসুদ খলিলই সর্বপ্রথম কোনো সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার এ বিজয় ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এছাড়া এ দেশের রাজনীতিতে নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার নজির।
বহুমাত্রিক সংস্কৃতির দেশ অস্ট্রেলিয়ার স্টেট ও ফেডারেল পর্যায়ের সংসদগুলোতে বিভিন্ন জাতিগত পরিচয়ের অনেক রাজনীতিবিদের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার উদাহরণ রয়েছে। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশিরা স্টেট পর্যায়ে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও এখনো পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি এ দেশে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি।
স্থানীয় রাজনীতিতে মাঠপর্যায়ে নানা নাগরিক সুবিধা ও অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ হিসেবে মাসুদ খলিলের পরিচিতি রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি সব জাতিগত পরিচয় ও সংস্কৃতির মানুষের মাঝেই তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা পরীক্ষিত। রাজনীতি ও সেবার ক্ষেত্রে তিনি সব মানুষকে সবার আগে অস্ট্রেলিয়ান হিসেবেই বিবেচনা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি কাঠামো তিনটি স্তরে বিন্যস্ত। সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফেডারেল সরকার পুরো দেশ পরিচালনা করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে স্টেট ও টেরিটরি অর্থাৎ রাজ্য সরকারগুলো নিজস্ব স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, যোগাযোগসহ নানা মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে। সর্বনিম্ন পর্যায়ে স্থানীয় সিটি কাউন্সিলগুলো ভবন নির্মাণ, স্থানীয় রাস্তাঘাট ও পার্কসহ নানা অবকাঠামো এবং নাগরিক সুবিধার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দায়িত্ব পালন করে। কাউন্সিলর মাসুদ খলিল স্থানীয় সরকার বা সিটি কাউন্সিল পর্যায়ে রাজনীতি করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবার স্টেট পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন।
এরই সূচনা হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেট পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্যাম্পবেলটাউন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে আজকের অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর মাসুদ খলিল স্থানীয় ভোটারদের সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, এ দেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুটি বড় দলের হাতে পুঞ্জীভূত হয়ে রয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় এই বড় দলগুলো জনসাধারণের ভোটকে তাদের স্বাভাবিক প্রাপ্য বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে। যার ফলে জনগণের প্রাপ্য সেবার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে নানা অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।
কাউন্সিলর খলিল তার স্থানীয় রাজনৈতিক দল ‘কমিউনিটি ভয়েস অব অস্ট্রেলিয়া’র প্রতিনিধি ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন ও তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সেবা প্রাপ্তির সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের আরেক কাউন্সিলর খালেদ হালাবির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এবং স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।