হোম > বিশ্ব > অস্ট্রেলিয়া

ঘর থেকে শস্যক্ষেত, ইঁদুরের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়াবাসী

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: বিবিসি

অস্ট্রেলিয়ার বিশাল এলাকাজুড়ে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে ইঁদুরের প্লেগ। এসব ইঁদুর অবাধে ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ছে এবং শস্যক্ষেত ধ্বংস করছে। চলমান মার্কিন-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের অনিশ্চিত সরবরাহের মুখে কৃষকেরা যখন এমনিতেই চাপে রয়েছেন, তখন এই নতুন সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।

এই নতুন দুর্যোগের কারণে ইঁদুরের খেয়ে ফেলা শস্যক্ষেত পুনরায় রোপণ করতে কিংবা খেতে বিষাক্ত বীজ বা টোপ ফেলার পেছনে কৃষকদের লাখ লাখ ডলার খরচ হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার (ডব্লিউএ) মিনজেনিও অঞ্চলের ১৪ হাজার হেক্টরের এক খামারের মালিক জিওফ কসগ্রোভ (৪৩) বলেন, ‘এটি বড় ব্যয়ের ব্যাপার এবং কেবল টোপের দামই শেষ কথা নয়। এগুলো মানসিকভাবেও প্রভাব ফেলে, রাতে ঘরের সিলিং ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ভেতর এগুলো দৌড়াদৌড়ি করে। আপনি এদের আওয়াজ শুনতে পাবেন এবং গন্ধ পাবেন, এটি যেন একটা গলিত লাশের মতো।’

২৫ বছর ধরে চাষাবাদ করা কসগ্রোভ জানান, এবারের ইঁদুরের উপদ্রব ২০২১ সালের চেয়েও অনেক বেশি মারাত্মক।

এর আগে ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) এবং কুইন্সল্যান্ডের কিছু অংশে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছিল। ওই সময় পরিস্থিতি এতটাই নাজুক ছিল যে, কারাগারের ব্যাপক ক্ষতি করায় শত শত বন্দীকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে হয়েছিল। এবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় গত মার্চ মাস থেকে প্রথম ইঁদুরের এই পঙ্গপালের মতো সংখ্যার কথা জানা যায় এবং এর কিছুদিন পর দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায়ও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার নলবা অঞ্চলের ৫ হাজার ৫০০ হেক্টরের খামারি ও কৃষিবিদ বেলিন্ডা ইস্টো (৫৯) জানান, গত বছর রেকর্ড পরিমাণ ফলন হওয়ায় ফসল কাটার সময় খেতে প্রচুর শস্য পড়ে ছিল, যা ইঁদুরের জন্য সহজলভ্য খাদ্যের উৎস তৈরি করে। এরপর গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টির কারণে কচি সবুজ চারা গজালে ইঁদুরদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।

ইস্টো তার ক্যানোলা ক্ষেতে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার ইঁদুর রয়েছে বলে অনুমান করছেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণত ইঁদুরের উপদ্রব হলে খাবার শেষ হওয়ার পর তাদের সংখ্যা কমে যায়, কিন্তু এবার তা কমেনি। আমি একটা দুঃস্বপ্নের মধ্যে বেঁচে আছি।’

শরৎকাল কৃষকদের জন্য বীজ রোপণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কৃষিবিদ ইস্টো কৃষকদের বীজ রোপণের পরপরই দ্রুত টোপ বা বিষ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বীজ বপনের পর দ্রুত বিষ না দিলে ইঁদুর রাতে এসে মাটি খুঁড়ে বীজ খেয়ে ফেলছে। এর ফলে পরদিন এসে দেখা যায় ফসলের পুরো সারিই গায়েব হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ডিজেল ও সারের ক্রমবর্ধমান খরচ কৃষকদের ওপর বড় আঘাত হেনেছে। দুই-তিন মাস আগের তুলনায় এখন জ্বালানির জন্য দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে। এর ওপর ইঁদুরের এই উপদ্রব আরেকটি বাড়তি মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা ‘সিএসআইআরও’-এর গবেষণা কর্মকর্তা এবং ইঁদুর দমন বিশেষজ্ঞ স্টিভ হেনরি জানান, সাধারণত প্রতি হেক্টরে ৮০০ ইঁদুর থাকলে তাকে প্লেগ বলা হয়। কিন্তু পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি হেক্টরে হাজার হাজার ইঁদুরের কথা বলা হচ্ছে। সম্প্রতি এক সফরে তিনি প্রতি ১০০ মিটার দূরত্বে ৩০ থেকে ৪০টি সক্রিয় ইঁদুরের গর্ত গণনা করেছেন, যা প্রতি হেক্টরে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ হাজার গর্তের সমান। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার পরিস্থিতিও একই রকম।

তিনি জানান, ইঁদুর মাত্র ছয় সপ্তাহ বয়সেই বংশবৃদ্ধি শুরু করতে পারে এবং প্রতি ১৯ থেকে ২১ দিনে ৬ থেকে ১০টি বাচ্চা দিতে পারে। বাচ্চা প্রসবের দুই-তিন দিনের মধ্যেই তারা আবার গর্ভধারণ করে। এই অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি এর একটি মানসিক প্রভাবও রয়েছে। খরা হলে মানুষ ঘরের দরজা বন্ধ করে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে, কিন্তু ইঁদুরের ক্ষেত্রে ঘরে ঢুকে আলমারি খুললেও ইঁদুর পাওয়া যায়, এমনকি রাতে ঘুমানোর সময় শরীরের ওপর দিয়েও ইঁদুর দৌড়ে বেড়ায়।

কয়েক মাস ধরে কৃষকেরা আরো শক্তিশালী বিষ বা টোপ ব্যবহারের অনুমতির জন্য জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অপেক্ষায় ছিলেন। সম্প্রতি সেই অনুমোদন মেলায় কৃষকেরা শক্তিশালী টোপ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

পার্থের উত্তরে মোরাওয়া অঞ্চলের ৬৭ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত কৃষক ড্যামিয়ান রায়ান জানান, তিনি তার বাড়ি থেকে প্রতিদিন ২০-৩০টি এবং শেড থেকে প্রায় ১৫০টি ইঁদুর ধরছেন। ৫০ বছরের খামারিজীবনে তিনি কখনো পরিস্থিতি এতটা খারাপ দেখেননি। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বৃষ্টির পূর্বাভাস এবং শক্তিশালী টোপের ব্যবহারের কারণে ইঁদুরের সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। শীত ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে কৃষকেরা আশা করছেন।

সূত্র: বিবিসি

এএম

অস্ট্রেলিয়ায় আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল ১০০ ড্রোন

শুধুমাত্র অর্থ ও সম্পদ অর্জন জীবনে সুখের মাপকাঠি না: মিশেল ওবামা

ইসরাইলে আটক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অস্ট্রেলিয়া

জেট ফুয়েল ও সার আমদানির ঘোষণা অস্ট্রেলিয়া সরকারের

অস্ট্রেলিয়ায় দেড় বিলিয়ন ডলারের ট্রাম্প টাওয়ার প্রকল্প বাতিল

১০০ কোটি লিটার জ্বালানি মজুতের ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

অস্ট্রেলিয়ায় যুদ্ধজাহাজ সরবরাহে ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করল জাপান

ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান পেতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

দুই মাসের জন্য ১১০০ ফ্লাইট বাতিল করল এয়ার নিউজিল্যান্ড

উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া