হোম > বিশ্ব > চীন

রাশিয়া ও চীনের উত্থানে সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক বিশ্ব

বিবিসি বাংলা

৯/১১ ও পরবর্তী ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ সময় পশ্চিমা দেশগুলো যখন তালেবান, আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই কিংবা ইরাকে জটিল দখলদার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত ছিল, তখন রাশিয়া ও চীন ব্যাপক পুনরায় অস্ত্রসজ্জা কর্মসূচি গ্রহণ করে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো উদ্ভাবন নেটোর একসময়ের সামরিক সুবিধাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষয় করেছে।

২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান স্যার অ্যালেক্স ইয়ঙ্গার বলেন, ‘আমরা এই শতাব্দীর প্রথম ২০ বছর প্রায় সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং বিদ্রোহ দমনে ব্যয় করেছি। সামরিক শক্তি এবং কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে চীনের উত্থান আমরা দেখতেই পারিনি।’

একইভাবে জেনারেল শিরেফ ২০১৬ সালে 'ওয়ার উইথ রাশিয়া' নামের রাজনৈতিক থ্রিলার লেখেন, যেখানে তিনি রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। চমৎকার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে কোনো লাভ নেই, যদি তা কৌশলগত সুবিধার জন্য কাজে লাগানো না যায়।

নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান সিবিলাইনের প্রধান বিশ্লেষক স্যাম অলসেন বলেন, ‘৯/১১-এর পর সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে পশ্চিমা বিশ্ব মনোযোগ হারিয়েছিল, এটাই একমাত্র ভুল নয়। তারা চীনের উত্থানের প্রকৃতিও সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। তারা ধরে নিয়েছিল যে অর্থনৈতিক একীভবন শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমমুখিতা তৈরি করবে।’

রাশিয়ার পাশাপাশি আজ চীনও এমআই৬-এর শীর্ষ গোয়েন্দা লক্ষ্যগুলোর একটি। সিবিলাইনের স্যাম অলসেন বলেন, ‘পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীন সম্পর্কে অনেক কিছুই বোঝে। বড় বিপদ হলো তারা পৃথক অংশগুলো দেখতে পায়, কিন্তু সবগুলো মিলে কী চিত্র তৈরি করছে তা সবসময় বুঝতে পারে না। চীনের শক্তি এখন আর শুধু জাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনাবাহিনীতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ক্রমবর্ধমানভাবে সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, বন্দর, টেলিযোগাযোগ এবং শিল্প সক্ষমতার মধ্যে নিহিত... ফলে সমস্যা প্রায়শই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ব্যর্থতা নয়, বরং কৌশলগত ব্যাখ্যার ব্যর্থতা।’

নিঃসন্দেহে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের সেই নির্মেঘ নীল সকালের পর গত ২৫ বছরে গোয়েন্দা কার্যক্রম ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশ্বের চেহারা প্রায় আমূল বদলে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের আবির্ভাবের ফলে এই পরিবর্তন আরো চলতে থাকবে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা হবে সূচকীয় গতিতে। তবে পরস্পরবিরোধী বর্ণনা ও স্বার্থে পূর্ণ এই বিশ্বে গোয়েন্দা ব্যর্থতা, ভুল মূল্যায়ন বা কৌশলগত ভুল হিসাবের একচেটিয়া অধিকার পশ্চিমা দেশগুলোর নেই।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উদাহরণের মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিপর্যয়কর পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন এবং ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর গাজা থেকে হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত হামলা, যাকে কেউ কেউ ইসরাইলের 'নিজস্ব ৯/১১' বলে বর্ণনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন রয়ে গেছে বড় কৌশলগত ও জাতীয় অনেক সিদ্ধান্তকে ঘিরে।

প্রেসিডেন্ট বুশের ইরাক আক্রমণে ব্রিটেনের যোগ দেওয়া কি সঠিক ছিল? আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডমে যোগ দেওয়া এবং তারপর দুই দশক পর তড়িঘড়ি করে দেশটি তালেবানের হাতে ছেড়ে দেওয়া কি সঠিক ছিল? এসব প্রশ্ন, এবং আরও অনেক প্রশ্ন, এখনো প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

‘ভারতের ৫০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে গেছে চীনা সেনা’

ব্রহ্মপুত্রে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণে চীন, তীব্র বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ-ভারত

থেমেছে কি ভাগ্যবিড়ম্বিত উইঘুরদের কান্না, বদলেছে কি জিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮, ধসে পড়েছে শত শত বাড়ি

প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে ‘গ্রে জোন’ কৌশল চীনের

চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৫ শতাংশ

রহস্য অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত খুলবে ‘নিউক্লিয়ার ক্লক’

চীনে পারিবারিক মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের সংকট, দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী উত্তরসূরিরা

লাওসে চীনের নতুন সামরিক ঘাঁটিতে ৮ যুদ্ধবিমান

সমুদ্রে চীনের গোপন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন চমক