যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালজুড়ে একের পর এক বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চহারে শুল্কারোপ করেছিলেন। এর মধ্যেই চীন প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য করেছে, যা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার প্রকাশিত শুল্ক বিভাগের তথ্যে দেখা গেছে, গত বছর চীনের রপ্তানি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে মোট ৩ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালের ৫ দশমিক ৮ শতাংশের তুলনায় সামান্য কম। তথ্যে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্য কমলেও অন্যান্য দেশের বাজারে নিজ দেশের পণ্য রপ্তানি বাড়িয়ে এ অবস্থায় পৌঁছায় বেইজিং।
শুল্ক তথ্যে আরো উঠে আসে— বেইজিংয়ের আমদানি ২ দশমিক ৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল ছিল, ফলে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হয় ১ দশমিক ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ তৈরির আগে ২০২৪ সালে এই ব্যবধান ছিল ৯৯২ ডলার।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক শুল্কের মুখোমুখি হওয়ার পর চীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের গ্রাহকদের দিকে মনোনিবেশ করে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশের রপ্তানি গত ডিসেম্বরে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা নভেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে রয়টার্সের জরিপে অংশগ্রহণকারী অর্থনীতিবিদেরা এই প্রবৃদ্ধির হার ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
এদিকে দেশটির আমদানিও বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ। এই হার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। নভেম্বরে প্রথমবারের মতো চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে; কারণ গত বছরের প্রথম ১১ মাসে এই ব্যবধান ১ দশমিক ০৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তবে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কমেছে, যা ২০২৪ সালে রেকর্ড নিচে নেমে গেছে। ফলে মস্কোয় কমেছে চীনের তৈরি গাড়ির চাহিদা।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণের কারণে রুশ তেলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেলের আমদানিও কমিয়েছে চীন।
বুধবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের শুল্ক প্রশাসনের উপমন্ত্রী ওয়াং জুন বলেছেন, বিশ্ববাণিজ্য বৃদ্ধির গতি পর্যাপ্ত নয় এবং চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়নের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিও অনুকূল নয়।
এসআই