হোম > বিশ্ব > চীন

চীনে তাইওয়ানের শ্রমমন্ত্রীর সফর, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না

আমার দেশ অনলাইন

বেইজিং ও তাইপের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চলার মধ্যেই চীনে সফর করেছেন তাইওয়ানের শ্রমমন্ত্রী হুং সুন-হান। এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (এপেক) মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে রোববার তিনি চীনের নানজিংয়ে যান। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের কোনো মন্ত্রীর এটাই প্রথম চীন সফর।

চীন ও তাইওয়ানের দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে এমন উচ্চপর্যায়ের সফর স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তবে এপেকের মতো বহুপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের একই পরিসরে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সফরকে তাই একদিকে তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, অন্যদিকে দুই পক্ষের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের সীমিত পরিসরও এতে স্পষ্ট হয়েছে। সফরটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না।

চীনের নানজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি এপেকের মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের সভা। বৈঠকে কর্মসংস্থান, শ্রমবাজারের পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তাইওয়ানের শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হুং কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য আরো নমনীয় কর্মব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মীদের সুরক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে কর্মীদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে কথা বলেছেন।

এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। লাই চিং-তে ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরকারি যোগাযোগ সীমিত রয়েছে। বেইজিং লাইকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তার সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে লাইয়ের অবস্থান হলো, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু তাইওয়ানের জনগণের। এই অবস্থানের মধ্যেই একজন বর্তমান মন্ত্রীর চীন সফরকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে তাইওয়ানের পক্ষ থেকে সফরটিকে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক সফর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি এপেকের নিয়ম ও প্রচলিত প্রক্রিয়ার আওতায় একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশগ্রহণের সফর। তাইওয়ান এপেকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে ‘চাইনিজ তাইপে’ নামে অংশ নেয়। এর আগে চীনে অনুষ্ঠিত এপেকের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাইওয়ানের নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তারাও অংশ নিয়েছেন।

চীন এ বছর এপেকের আয়োজক দেশ। আগামী নভেম্বরে শেনঝেনে এপেক নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চীনের আপত্তির কারণে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাধারণত এ বৈঠকে সরাসরি অংশ নেন না; তাঁর পরিবর্তে সাবেক কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিকে পাঠানো হয়। আগামী শীর্ষ সম্মেলনে তাইওয়ানের প্রতিনিধি কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

হুংয়ের নানজিং সফরের সময়ও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে তাইওয়ানও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।

এদিকে হুংয়ের সফর নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে বলে তাইওয়ানের শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন এপেকের প্রচলিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাইওয়ানের প্রতিনিধিদলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছে। বৈঠকে হুং ‘চাইনিজ তাইপে’ নামের পরিচয় ফলকের সামনে বসে অংশ নেন।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স, ফোকাস তাইওয়ান ও তাইপেই টাইমস

চীনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে মি টু আন্দোলন, প্রকাশ্য তৎপরতা কমছে নারীবাদীদের

রোবট খাতে বিনিয়োগে শীর্ষে চীন, এগিয়ে যাচ্ছে একটি মুসলিম দেশ

চীনের রপ্তানিনির্ভর মডেলের বিরুদ্ধে বাড়ছে প্রতিরোধ

সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর, কমবে কি দিল্লি-বেইজিংয়ের বৈরিতা?

রাশিয়া ও চীনের উত্থানে সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক বিশ্ব

চীনের বন্দরে নোঙর করা কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০

লাইব্রেরি সহকারি থেকে চীনের বিপ্লবী নেতা মাও সে তুং

যুদ্ধের জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত থাকতে বলল চীন, উদ্বেগে ভারত

পৃথিবীর যুদ্ধ চাঁদেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, চীনা মহাকাশ বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

ইরানি তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে পাল্টা পদক্ষেপ নিল চীন