হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

এক দশকেই বিলুপ্ত হতে পারে মানবজাতি, ‘এআই গডফাদার’ হিন্টনের সতর্কবার্তা

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সংগৃহীত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার যে ১০ শতাংশ সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, তা অযৌক্তিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী ও এআই প্রযুক্তির অন্যতম পথিকৃৎ জিওফ্রে হিন্টন। প্রযুক্তির এই অগ্রভাগে কাজ করা গবেষকদের ক্রমবর্ধমান সতর্কবার্তার তালিকায় তিনিও নিজের মতামত যুক্ত করলেন।

বুধবার বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত হিন্টন বলেন, মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে—এমন কোনো সত্তা এর আগে মানবজাতি তৈরি করেনি। ফলে এআই কতটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো সত্তা তৈরি করিনি, যারা খুব শিগগিরই আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হতে পারে। কী ঘটতে যাচ্ছে, আমরা জানি না।’

আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হিন্টন বলেন, এই ঝুঁকি মাত্র ১ শতাংশ ধরে নেওয়া খুবই বোকামি হবে।

তার ভাষায়, ‘১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে আমার কাছে অযৌক্তিক কোনো অনুমান মনে হয় না। তবে কীভাবে একটি যুক্তিসংগত হিসাব দেওয়া যায়, তা সত্যিই কেউ জানে না।’

হিন্টন সতর্ক করে বলেন, ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটাতে উন্নত এআইয়ের বাস্তব জগতের কোনো যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা থাকা অবশ্যই প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই এআই “পুরোপুরি বিশৃঙ্খলা” সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি অত্যন্ত সক্ষম এআই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিপজ্জনক জৈবিক ভাইরাস বা কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি এবং ভয়াবহ সাইবার হামলাও চালানো সম্ভব।

হিন্টনের এই সতর্কবার্তার মধ্যেই শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কয়েকজন গবেষকও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

২৭ বছর বয়সী গবেষক জ্যাকব কক্সন মঙ্গলবার এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকে তাঁর চাকরি ছাড়ার কথা জানান। এর আগে তিনি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকে মৌলিক এআই মডেল নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও উভয় প্রতিষ্ঠান নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

কক্সন বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তারা সরাসরি নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে ছুটছে এবং আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে।’

তিনি আরও সতর্ক করেন, উন্নত এআই তৈরির সঙ্গে যুক্ত অনেক গবেষক ব্যক্তিগতভাবে আশঙ্কা করছেন যে চলতি দশক শেষ হওয়ার আগেই এই প্রযুক্তি মানব অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের প্রধান ইভান হুবারিঙ্গারও মঙ্গলবার কক্সনের উদ্বেগের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে “সব মানুষ মারা যাওয়ার” সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন।

তবে হুবারিঙ্গার জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান এআই ব্যবস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বিপদ তৈরি করছে না। তাঁর মূল উদ্বেগ ভবিষ্যতে ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’-এর মাধ্যমে সুপারইন্টেলিজেন্সের উদ্ভব নিয়ে। এ প্রক্রিয়ায় এআই নিজেই আরও শক্তিশালী এআই তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।

হিন্টনের মতে, তাই উন্নত এআই ব্যবস্থার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য যেন মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর না হয়, সেভাবেই এগুলো তৈরির পদ্ধতি খুঁজে বের করা জরুরি।

তিনি বলেন, আমাদের এমনভাবে এটি নকশা করতে হবে, যাতে এটি ক্ষতিকর কিছু করতে না চায়।

এমএমআর

মুক্তচিন্তার পাশাপাশি দায়িত্ববোধ জরুরি: ইউজিসি চেয়ারম্যান

২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে যে ভেন্যুতে

কুয়াকাটায় ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

জাকসু জব ফেয়ারে ৭০০ চাকরির সুযোগ

ডিজিটাল ও এআই-সহায়ক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োজন: আইনমন্ত্রী

৬৫০০ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা দিল ডাকসু

আইসিসির মাসসেরার দৌড়ে হাসান

বরিশালে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা উপেক্ষার পরিণতি পাকিস্তানের জন্য ভালো হয়নি: জামায়াত আমির

চীনের বন্দরে নোঙর করা কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০