হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

বর্ণবাদের আগুনে পুড়ছে আয়ারল্যান্ড

আমার দেশ অনলাইন

১২ জুন পূর্ব বেলফাস্টের একটি রাস্তা, যেখানে জাতিগত দাঙ্গার সময় বাড়িঘরে হামলা ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ছবি: এমইই

উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে ভয়াবহ বর্ণবাদী সহিংসতা ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পূর্ব বেলফাস্টের নিউটাউনার্ডস রোডের বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাতাসে এখনো পোড়া গন্ধ ভাসছে। মূলত লয়ালিস্ট প্রোটেস্ট্যান্ট এলাকায় এই দাঙ্গা প্রায় পুরো সপ্তাহ ধরে চলেছে।

দাঙ্গার সূত্রপাত ক্ষয়ক্ষতি

স্টিফেন ওগিলভি নামের স্থানীয় এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় হাদি আলোদিদ নামের এক সুদানিস নাগরিকের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দাঙ্গার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিবাসীদের ঠিকানা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বর্ণবাদী হামলাকারীরা বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণভয়ে অনেক মুসলিম পরিবার তাদের সন্তানদের শ্বেতাঙ্গ প্রতিবেশীদের কাছে রেখে আসেন। হামলায় ইউক্রেন, পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার বেশ কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এর মধ্যে এক ইউক্রেনীয় নারী রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে বাঁচতে বেলফাস্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলাকারীদের কালো পোশাক পরতে, মুখ ঢাকতে এবং ডোরবেল ক্যামেরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

পরাসামরিক বাহিনীর ভূমিকা অনলাইন উসকানি

দাঙ্গায় উলস্টার ভলান্টিয়ার ফোর্স (ইউভিএফ) এবং উলস্টার ডিফেন্স অ্যাসোসিয়েশন (ইউডিএ)-এর মতো লয়ালিস্ট আধাসামরিক বা পরাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির পরও এদের প্রভাব শেষ হয়ে যায়নি। এখন এই বাহিনীগুলো অভিবাসী ও কৃষ্ণাঙ্গদের লক্ষ্য করে সহিংসতা চালাচ্ছে।

এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উসকানি এই আগুন আরো বাড়িয়েছে। ধনকুবের ইলন মাস্কের সমর্থনপুষ্ট উগ্র ডানপন্থি উসকানিদাতা টমি রবিনসন এই বিক্ষোভের ডাক দেন। ইলন মাস্ক নিজেও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এই বিক্ষোভের প্রচার চালান।

ট্র্যাডিশনাল ইউনিয়নিস্ট ভয়েস পার্টির এমপি জিম অ্যালিস্টার এবং রিফর্ম ইউকে-এর নেতা নাইজেল ফারাজের মতো মূলধারার রাজনৈতিক নেতারাও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য দিয়ে এই উত্তেজনাকে উসকে দিয়েছেন।

নেপথ্যের কারণ বৈষম্য

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, এটি একটি সুসংগঠিত বর্ণবাদী প্রচারণার অংশ। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দাদের ৯৬ শতাংশেরও বেশি শ্বেতাঙ্গ। এখানে যুক্তরাজ্যের মোট আশ্রয়প্রার্থীদের মাত্র ১ শতাংশ বাস করেন। তা সত্ত্বেও মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিবাসীদের নিয়মিত অপরাধী হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে।

এছাড়া বেলফাস্টে আবাসন সংকট এই ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ২০ হাজার বাড়ি খালি পড়ে থাকলেও সামাজিক আবাসনের জন্য ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ লাইনে আছেন।

স্থানীয়দের ধারণা, বেশি ভাড়ার লোভে বাড়িওয়ালারা সরকারি সহায়তায় আসা অভিবাসীদের ঘর ছেড়ে দিচ্ছেন। এই অর্থনৈতিক ক্ষোভকে বর্ণবাদে রূপ দেওয়া হচ্ছে।

দাঙ্গাকারীদের ভণ্ডামি

যে স্টিফেন ওগিলভিকে ছুরিকাঘাতের দোহাই দিয়ে এই দাঙ্গা চালানো হচ্ছে, তিনি নিজেই আগে লয়ালিস্ট গ্যাং বা পরাসামরিক বাহিনীর দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন। ইউভিএফ-এর একটি দল তাকে আগে আয়ারল্যান্ড ছাড়তে বাধ্য করেছিল এবং নির্যাতন করেছিল। ওগিলভির পরিবার এই সহিংসতায় তার নাম ব্যবহার করায় তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছে।

শহরের বহু মানুষ এই বর্ণবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন। বর্ণবাদ বিরোধী এক মিছিলে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়ে শান্তি ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এএম

শুক্রবারে ইরান-মার্কিন আলোচনা, নিশ্চিত করল সুইজারল্যান্ড

লেবাননে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে: ম্যাক্রোঁ

নৈশভোজের মাধ্যমে জি-৭ সম্মেলনের সমাপ্তি টানছেন ম্যাক্রোঁ

ভিবাসন আইন কঠোর করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আমরা সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি: মোদিকে মেলোনি

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় স্থায়ীভাবে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি

আমি পাশে না থাকলে ইসরাইলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা, আলোচনার কেন্দ্রে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব জেলেনস্কির

ব্রিটিশ উচ্চশিক্ষায় বড় বিপদের পূর্বাভাস