ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, দিনিপ্রোসহ কয়েকটি শহরে রাশিয়া ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে চালানো এই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। তবে দুই পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
গত সপ্তাহে রুশ-নিয়ন্ত্রিত লুহানেস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর কিয়েভে ধারাবাহিক হামলার হুঁশিয়ারি দেয় মস্কো। যদিও ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউক্রেন।
হামলার পর প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবনের কাছে বড় বিস্ফোরণ এবং আকাশজুড়ে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, রাতভর হামলায় রাজধানীতে অন্তত চারজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, একটি ২৪ তলা আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ফলে ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি ৯ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ একাধিক স্থাপনায় আগুন লাগে।
ক্লিচকোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওবোলোন জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এছাড়া খোলা জায়গার আরও কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যার মধ্যে একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছাকাছি এলাকা রয়েছে।
হামলার সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হাজার হাজার মানুষ কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। অনেককে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গদি নিয়ে ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোতে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রুশ হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় ছিল বলে জানানো হয়েছে।
ভোর হওয়ার পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এসআর