রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে আরও আত্মনির্ভর করতে দেশটির নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে ব্রিটেন। এর অংশ হিসেবে ব্রিটেন ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি ও তথ্য দিচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সরবরাহের ওপর কিয়েভের নির্ভরতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ব্রিটেন ইউক্রেনকে ফ্রান্সের তৈরি ‘স্কাল্প’ ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসংক্রান্ত গোপন তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে ইউক্রেনের মাটিতেই ওই ধরনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও সংযোজন করা সম্ভব হবে। ব্রিটিশ সহায়তার এ উদ্যোগকে ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদনে বড় পরিবর্তনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, মজুতের সংকট ও সরবরাহে দেরির কারণে অনেক সময় কিয়েভকে প্রয়োজনীয় অস্ত্রের জন্য মিত্রদের ওপর অপেক্ষা করতে হয়েছে। নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে পারলে ইউক্রেন এ নির্ভরতা অনেকটাই কমাতে পারবে।
রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেনের সেনাসংখ্যা কম। ফলে রুশ বাহিনীর সঙ্গে একইভাবে সেনা দিয়ে লড়াই করার পরিবর্তে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে রুশ সামরিক ঘাঁটি, বিমানঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানোর কৌশল নিচ্ছে কিয়েভ। নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়লে এ সক্ষমতা আরও বাড়বে।
ইউক্রেন শুধু আক্রমণাত্মক অস্ত্র নয়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও নিজেদের দেশে তৈরির চেষ্টা করছে। বর্তমানে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট থাকায় এ নির্ভরতা ইউক্রেনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে সরে আসার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখাচ্ছে না। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছেন। ইউরোপের কিছু দেশে রাশিয়াপন্থী রাজনৈতিক শক্তির উত্থানও ইউক্রেনের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে ব্রিটেন ও ইউরোপের দেশগুলোর সহায়তায় ইউক্রেনকে এমন পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে পশ্চিমা দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও কিয়েভ নিজের প্রতিরক্ষা চালিয়ে যেতে পারে। ইউক্রেনের নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোকে তাই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।