হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

পাঁচ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বিদায় নিয়েছেন, রয়ে গেছেন মেয়র সাদিক খান

আমার দেশ অনলাইন

দশ বছর আগে যখন সাদিক খান প্রথমবার লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন, তখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ছিল এক ভিন্ন বাস্তবতা। দেশটি তখনও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য, আর বিশ্ব রাজনীতিতে নেতৃত্বে ছিলেন বারাক ওবামা। সেই সময় থেকে ব্রিটেনে একের পর এক প্রধানমন্ত্রী বদলেছেন—ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাক বিদায় নিয়েছেন; এখন দায়িত্বে আছেন কিয়ার স্টারমার। কিন্তু লন্ডনের সিটি হলে এখনও বহাল আছেন সাদিক খান।

দক্ষিণ লন্ডনের এক বাসচালকের ছেলে খান টানা তিনবার নির্বাচিত হয়ে রাজধানীর ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী মেয়রদের একজন হয়ে উঠেছেন। নিজের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি বলেছেন, “লন্ডন আশার এক জীবন্ত উদাহরণ।”

মেয়র হিসেবে নিজের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী—এমন প্রশ্নে খান বলেন, তিনি শিখেছেন “জোট গঠন” করতে। তার ভাষায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করেই তিনি বারবার নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, “একসঙ্গে কাজ করলে আরও বেশি অর্জন সম্ভব।”

তবে এই এক দশক সহজ ছিল না। ব্রেক্সিট, মহামারি, সন্ত্রাসী হামলা এবং গ্রেনফেল টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে লন্ডনকে। একইসঙ্গে লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণেরও মুখোমুখি হয়েছেন খান।

বিশেষ করে ট্রাম্প বারবার তাকে আক্রমণ করেছেন। ট্রাম্প একসময় খানকে “ভয়ংকর মেয়র” বলে মন্তব্য করেছিলেন। জবাবে খান ট্রাম্পকে “বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী” বলে আখ্যা দেন। এখনো তিনি মনে করেন, বহুত্ববাদী ও উদার শহর হিসেবে লন্ডনের অস্তিত্বই চরম জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতীক।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়েও নিজের সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন সাদিক খান। তার নেতৃত্বে লন্ডনে সম্প্রসারিত হয়েছে অতি নিম্ন নির্গমন অঞ্চল', বেড়েছে সাইকেল লেন, চালু হয়েছে বৈদ্যুতিক বাস, এবং শহরজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। লন্ডনের বায়ুদূষণ কমাতে তার পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে।

খানের দাবি, গত এক দশকে লন্ডন আরও “সবুজ, নিরাপদ ও ন্যায্য” শহরে পরিণত হয়েছে। তবে সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—জলবায়ু পরিবর্তন, তাপপ্রবাহ, বন্যা এবং বায়ুদূষণ মোকাবিলায় আরও কাজ করতে হবে বলে তিনি স্বীকার করেন।

তবু ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী সাদিক খান। তার কথায়, “লন্ডনের ইতিহাসই হলো—আমরা প্রতিকূলতা থেকে ঘুরে দাঁড়াই, এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসি।”

সূত্র: গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষ্যৎকার

ইরানের রুট মেনেই হরমুজ পার হয়েছে তেলের ট্যাংকার

ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকে পৌঁছেছে

১৬ বছরের অরবান যুগের অবসান, হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার

ন্যাটোর ভবিষ্যত নিয়ে যা জানাল জার্মান চ্যান্সেলর

৩ দিনের যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় নিশ্চিত করলো ইউক্রেন-রাশিয়া

ট্রাম্পের পারমাণবিক হামলার হুমকি নিয়ে ইরানের উপহাস

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে: ইরান

ফ্রান্সে ফ্লাইট বিপর্যয় এড়াতে বিশেষ উদ্যোগ

ইরানের প্রক্সি হামলার আতঙ্কে জার্মানি

জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্রান্সের বিমান সংস্থাগুলোকে সহায়তা দেবে সরকার