ফ্রান্সজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং মানুষ ও সরকারি স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। খবর আনাদোলুর।
সোমবার ব্রাসেলসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র মার্কুস ল্যামার্ট বলেন, গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার একটি মৌলিক অধিকার, যা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। তবে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং ব্যক্তি বা সরকারি স্থাপনায় হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, মৌলিক অধিকার পুরোপুরি সমুন্নত রেখে মানুষের নিরাপত্তা, সম্পদ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে ইইউ। এসব ঘটনার তদন্ত জাতীয় পর্যায়ে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের।
এদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের আরেক মুখপাত্র টমাস রেনিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, চলমান অস্থিরতার মধ্যে অনলাইন মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়া কিংবা এ ধরনের কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ইইউর ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের কথা উল্লেখ করে রেনিয়ে বলেন, অনলাইনে সহিংসতা ছড়ানো বা এর বিস্তার বাড়ানোর প্রচেষ্টা মূল্যায়ন এবং তা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে প্ল্যাটফর্মগুলোকে। এ ক্ষেত্রে সহিংসতার উৎস যেখানেই হোক, একই দায়িত্ব প্রযোজ্য হবে।
তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় কমিশন ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও দেশটির ডিজিটাল সার্ভিসেস সমন্বয়কারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। এ বিষয়ে ফরাসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সোমবার আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
গত শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলাকালে ব্যাপক সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব ঘটনায় প্রায় এক হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সহিংসতায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ কোটি ইউরো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএমআর