লিবিয়ার উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। নৌকাটি ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল, তবে লিবিয়ার জলসীমার মধ্যেই এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ৩২ জন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে পৌঁছে দেয়।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। তাদের মতে, নৌকাটিতে ১০০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। এটি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এবং শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে দুর্ঘটনায় পড়ে।
উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিরা জানান, সমুদ্রে আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল ছিল এবং বড় ঢেউয়ের কারণে নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নৌকাটি উল্টে যায়।
জার্মান সংগঠন সি-ওয়াচ জানায়, তারা শনিবার একটি বিমানের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের মাঝামাঝি এলাকায় একটি বিপদগ্রস্ত নৌকার সন্ধান পায়। সেখানে গিয়ে তারা উল্টে থাকা কাঠের নৌকার পাশে প্রায় ১৫ জনকে ভাসতে দেখে এবং কয়েকটি মরদেহও শনাক্ত করে।
ইতালীয় কোস্টগার্ডের মুখপাত্র রবার্তো দ’আররিগো জানান, উদ্ধার অভিযানে লিবিয়ার কর্তৃপক্ষও অংশ নেয়। এতে একটি ইতালীয় ও একটি লাইবেরিয়ান বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যবহৃত হয়। উদ্ধার হওয়া ৩২ জন—যাদের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিসরের নাগরিক রয়েছে—তাদের ইতালীয় কোস্টগার্ড জাহাজে স্থানান্তর করে ল্যাম্পেদুসায় আনা হয়। এ ঘটনায় দুটি মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ফিলিপ্পো উঙ্গারো বলেন, নৌকাটি এমন যাত্রার জন্য মোটেও উপযুক্ত ছিল না। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৭০ জন নিখোঁজ আছেন, যদিও বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইওএমের ধারণা, নৌকাটিতে মোট ১২০ জন থাকতে পারে। এই সংখ্যা সত্য হলে এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অভিবাসী নৌ-দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে ইতালীয় সংস্থা মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান (এমএসএইচ) বলেছে, এই দুর্ঘটনা কেবল একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নয়; বরং ইউরোপীয় দেশগুলোর নীতির ফল, কারণ তারা নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনপথ তৈরি করতে আগ্রহী নয়।
সিআরডির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৩৩ হাজার ৪৫০ জনের বেশি অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। শুধু চলতি বছরেই কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন।