আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মার্কিন ও ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন কেনেথ রথ। তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ফেলো এবং মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক নির্বাহী পরিচালক।
রথের মতে, আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার অবসান ঘটাচ্ছে না। তবে আদালতটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে ওয়াশিংটন এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে, যেখানে মার্কিন ও ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধীরা নিরাপদে থাকতে পারবেন।
১৯৯৮ সালে আইসিসি প্রতিষ্ঠার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নাগরিকদের আদালতের বিচার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে উল্লেখ করেন রথ।
এখন পর্যন্ত আইসিসির ১৩ জন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর ব্যক্তিগতভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার আদালতটির ওপর সামগ্রিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। রথের আশঙ্কা, এর ফলে আদালতটির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
রথ মনে করেন, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘ব্লকিং স্ট্যাটিউট’ কার্যকর করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপীয় ব্যাংকগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে না চলার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।
তবে এখনো এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি। রথের ভাষ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা পদক্ষেপের আশঙ্কায় নেদারল্যান্ডসের ব্যাংকগুলো উদ্বিগ্ন। এ কারণেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এএম