হোম > বিশ্ব > ভারত

বিয়ের পোশাকে মন্দিরে ৪০ বর, সারাদিনেও এলেন না কোনো কনে

আমার দেশ অনলাইন

২০১৯ সালে ভারতের সুরাটে একটি গণবিবাহ অনুষ্ঠানে কনেরা। ছবি: এপি।

বিয়ের পোশাক পরে সকাল থেকে মন্দিরে বসেছিলেন প্রায় ৪০ জন বর। সঙ্গে ছিল তাদের পরিবারও। অপেক্ষা ছিল কনেদের জন্য। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হলেও কোনো পাত্রী না আসায় শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য—গণবিয়ের নামে সবাইকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়েছে।

ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস এলাকায়।

অভিষেকের বাবা-মা তার বিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন। ভারতের একটি কাছের গ্রামের এক ব্যক্তি নিজেকে ঘটক পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, একটি ছবির অ্যালবাম থেকে এতিম নারী পছন্দ করলেই হবে এবং একটি গণবিয়েতে অংশ নিতে প্রায় ২০০ ডলার দিতে হবে।

গত মে মাসের শেষ দিকে নির্ধারিত দিনে অভিষেক ভার্মাসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৪০ জন বর সকাল ৮টায় বিয়ের পোশাক কুর্তা ও শেরওয়ানি পরে হাজির হন। কিন্তু সারাদিন অপেক্ষার পরও কোনো কনের দেখা না পেয়ে তারা বুঝতে পারেন, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা প্রীতি কাটারে বলেন, প্রতারকরা তাদের ‘টোপ গিলিয়েছিল’। ভুক্তভোগীরা ছিলেন গ্রামাঞ্চলের ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ। লজ্জার কারণে আরো অনেক ব্যক্তি অভিযোগ করতে আসেননি বলেও জানান তিনি।

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য মধ্যপ্রদেশে ঘটনার কথিত ঘটক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। ভারতের বিয়ের বাজারে প্রতারণা নতুন নয়, তবে ভুয়া গণবিয়ের ঘটনা খুবই বিরল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রাম লাল ভগত বলেন, ৪০ বছরের চাকরি জীবনে এ ধরনের প্রতারণামূলক গণবিয়ের ঘটনা এই প্রথম দেখলেন তিনি।

অভিষেক ভার্মাসহ আরো একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কথিত ঘটককে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে পুলিশ জানায়, ৪৫ বছর বয়সী দিনেশ বৈরাগী এবং তার ভাই ৪০ বছর বয়সী মুকেশ বৈরাগীসহ চার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি বরের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার রুপি করে নিয়ে বৈরাগী পরিবারটি প্রায় ৪ হাজার ডলার আয় করেছে। গ্রামীণ পরিবারের জন্য এটি উল্লেখযোগ্য অর্থ হলেও বিয়ের খরচের তুলনায় কম বলে জানায় পুলিশ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রীতি কাটারে বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের গ্রামীণ পুরুষদের জন্য পাত্রী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ার সুযোগ নিয়েছিল প্রতারকরা।

ভারতে পণ প্রথা ১৯৬১ সালে আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হলেও এখনো এর প্রচলন রয়েছে। গ্রামীণ কনের পরিবারের জন্য পণ হিসেবে কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হয়, যা কখনো কখনো তাদের কয়েক বছরের আয়ের সমান।

কনের সংকট মোকাবিলায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার গণবিয়েতে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এসব বিয়ে সাধারণত প্রচলিত কয়েক দিনের বিয়ের চেয়ে কম সময় ও কম খরচে সম্পন্ন হয়।

তবে মধ্যপ্রদেশের এই ভুয়া গণবিয়ের সঙ্গে কোনো সরকারি প্রকল্প বা নির্বাচনের সম্পর্ক ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত পরিবারটি গ্রামে নিজেদের পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে লোকজনকে প্রতারণা করেছে।

দিনভর কনের অপেক্ষায় থাকার পর সন্ধ্যার দিকে বর ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দেওয়াস শহরের একটি মন্দিরে তাদের জড়ো হতে বলা হয়েছিল।

অভিষেক জানান, পরে তিনি কথিত ঘটকদের দেওয়া কনেদের ছবিগুলো খতিয়ে দেখেন। তখন জানতে পারেন, ওই নারীরা এতিম নন; বরং তারা ইনস্টাগ্রামে লাখ লাখ অনুসারী থাকা ইনফ্লুয়েন্সার।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

এমএমআর

সারা দেশে বোমা উদ্ধারের নেপথ্যে

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদলে কী বার্তা

ভবিষ্যৎ সংঘাতের প্রস্তুতি, সামরিক নীতি বদলাচ্ছে ইরান

ভারতের সেই হোটেল শিখা-ইনের মালিক গ্রেপ্তার

আমেরিকায় ‘ভালো’ মুসলিম নেই!

বঙ্গভবনে শুভ্রতার আলো

পেছানোর পথ রুদ্ধ এগোনোর পথ অবারিত

একই দৃশ্য, কেবল সময় ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বিদ্যুতের আলো দেখেনি ৫৬০ পরিবার

চীনে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর স্বপ্নে চুয়েটের তরুণ প্রকৌশলীরা