হোম > বিশ্ব > ভারত

গো-পাচারের গুজবে শিলিগুড়িতে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে দুই মুসলিম যুবক হত্যা

পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু নিপীড়ন

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা

শিলিগুড়িতে গরু পাচারের সন্দেহে একটি পিকআপ ভ্যান পুড়িয়ে দেওয়া হয়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে চরম উগ্রবাদ ও সংখ্যালঘু নিধনের ভয়াবহ চিত্র। নিছক গরু পাচারের সন্দেহের বশবর্তী হয়ে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকায় যে পৈশাচিক বর্বরতা চালানো হলো, তা আরও একবার ভারতের মাটিতে মুসলমানদের চরম নিরাপত্তাহীনতা ও করুণ পরিস্থিতিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। শুক্রবার গভীর রাতে তারাবাড়ি এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি চারচাকা গাড়ি প্রবেশ করতেই সন্দেহবশত উন্মত্ত জনতা সেগুলোকে ঘিরে ফেলে। কোনো রকম আইনি পদক্ষেপ বা যাচাইয়ের তোয়াক্কা না করে শুরু হয় নির্মম গণপিটুনি। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা, ভ্যানচালক শহিদ আখতারকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বড় পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন করা হয় এবং পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে চারচাকা গাড়িটি ফেলে আরও চার যুবক পালানোর চেষ্টা করলে জনতা তাদের ধাওয়া করে বাগডোগরার ধিমাল বস্তি এলাকায় ধরে ফেলে। সেখানেও চলে অমানবিক নির্যাতন, যার জেরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় হরিয়ানার বাসিন্দা শাদ মহম্মদের। বাকিদের মধ্যে কোনোক্রমে এক যুবক দৌড়ে পালিয়ে পানিঘাটা থানায় আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন। আমির, আরিফ খান ও আক্রম নামের আরও কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এক সুপরিকল্পিত সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘৃণ্য রূপ। গো-রক্ষার নামে এক শ্রেণির উগ্রবাদী মানুষ আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে মুসলিমদের ওপর নিয়মিত প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে। বর্তমান ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানরা এমন এক ভয়াবহ ও দমবন্ধ করা পরিস্থিতির শিকার, যেখানে স্রেফ গুজবের বশবর্তী হয়ে যেকোনো সময় তাদের পিটিয়ে মারা হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে, যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে সম্প্রীতির কথা বলা হয়, সেখানেও এমন প্রকাশ্য গণপিটুনি ও পুড়িয়ে মারার ঘটনা প্রমাণ করে যে মুসলমানদের জীবনের নিরাপত্তা তলানিতে এসে ঠেকেছে।

শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিপি ইস্ট অনির্বাণ মজুমদার তদন্তের আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এ ধরনের গণপিটুনির ঘটনায় দোষীরা প্রায়শই পার পেয়ে যায়, যা এই উন্মত্ত জনতাকে আরও বেপরোয়া করে তোলে।

পুরো রাজ্য জুড়েই যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে এবং ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনিই যে এখন বিচারব্যবস্থার বিকল্প হয়ে উঠছে, তার প্রমাণ মিলেছে কলকাতার উপকণ্ঠে সোনারপুরেও। সেখানে পুরোনো খুনের আক্রোশের জেরে গোপাল হালদার নামের এক যুবককে গ্যারেজ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একইভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এভাবেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জনতা স্বঘোষিত বিচারকের ভূমিকা পালন করছে। এই সার্বিক নৈরাজ্য ও বিচারহীনতার বাতাবরণে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলমানরা আজ এক চরম অস্তিত্বসংকট ও ভীতির মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের রুটিরুজির পথ যেমন ক্রমশ সংকুচিত করা হচ্ছে, তেমনই রাস্তায় বেরোলে স্রেফ সন্দেহের বশে যখন-তখন প্রাণ হারানোর আতঙ্কে প্রতিটি মুহূর্ত কাটাতে হচ্ছে। মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের এই নগ্ন চিত্র গোটা উপমহাদেশের সভ্য সমাজের কাছেই আজ এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন।

কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা, উত্তেজনা

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল দিল্লি, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

বোরকা পরায় লেবার রুমে নার্সদের ঢুকতে বাধা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

তামিল নায়কদের হার মানাচ্ছে ছুরিকাহত ভারতীয় পাইলটের গল্প

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক ককরোচদের

বিক্ষোভে প্রকম্পিত ভারত, সিইসির পদত্যাগ দাবি

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ

ফের বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৭ শতাধিক

ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপের পরও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চিত

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ, আটক ৫ শতাধিক