ভারতের মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছেন শেখ বংশীয় ভোটাররা। রাজ্যটির ভোটার তালিকা থেকে এই পদবির ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৯৭৮ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সাবার ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াদের মধ্যে মুসলিম নামধারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। রাজ্যজুড়ে মোট ২ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ লাখ ২০ হাজার ১৭৩ জন মুসলিম নামধারী, যা মোট বাদ পড়া ভোটারের ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যায় মুসলিমদের আনুমানিক হার ১২ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ জনসংখ্যায় তাদের অংশের তুলনায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে মুসলিম নামধারীদের হার বেশি।
মুম্বাইয়ে এই ব্যবধান আরো বেশি। সেখানে বাদ পড়া ভোটারদের ২১ দশমিক ৩ শতাংশ মুসলিম নামধারী। মহারাষ্ট্রের বাকি অংশে এ হার ১৩ দশমিক ২ শতাংশ।
পদবিভিত্তিক তালিকায় শেখের পর রয়েছে পাটিল। এই পদবির ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। এ ছাড়া খান পদবির ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৯, যাদব পদবির ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭৯৬ এবং পাওয়ার পদবির ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬০৭ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ পদবিধারীদের বাদ পড়া নামের ৮৮ শতাংশের ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ দেখানো হয়নি। তাদের স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া, অনুপস্থিত বা খুঁজে না পাওয়া এবং আগে থেকেই অন্যত্র ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত থাকার মতো কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদ পড়া শেখ পদবিধারীদের প্রায় ৩০ শতাংশ মুম্বাইয়ের বাসিন্দা। তাদের ৪৭ শতাংশ নারী। মহারাষ্ট্রের ২৮৮টি বিধানসভা কেন্দ্রেই এই পদবির ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে। সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুম্বরা-কালওয়া কেন্দ্রে।
তবে সাবার ইনস্টিটিউট সতর্ক করে বলেছে, শুধু পদবির তালিকা দেখে ধর্মীয় বা বর্ণভিত্তিক লক্ষ্যবস্তু করার প্রমাণ হিসেবে বিষয়টিকে বিবেচনা করা যাবে না। এই তালিকা মূলত বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে কোন পদবি কত বেশি প্রচলিত, তা তুলে ধরে; নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের মোট ভোটারের কত অংশ বাদ পড়েছেন, তা নয়।
মুসলিম নামধারী ভোটারদের বিষয়ে ইনস্টিটিউটের পৃথক বিশ্লেষণেই তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে তাদের সামগ্রিক উপস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।
সূত্র: মাকতুব মিডিয়া