হোম > বিশ্ব > ভারত

এনকাউন্টারে নিহত পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত, ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ বলছে বিরোধীরা

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা

ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে নাবালিকা মুসলিম কন্যার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছে। ইতোমধ্যে এই এনকাউন্টারকে ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ বলছে বিরোধীরা।

তাদের মতে, কেউ সত্যিই অপরাধ করে থাকলে আদালতে তার বিচার হবে, তারপর শাস্তি এটাই নিয়ম।

কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরি অনেকটা কটাক্ষ করে বলেছেন, আমার ভাবতে অবাক লাগছে যে লোকটা খালি হাতে গ্রামের মানুষকে নাবালিকার দেহ খুঁজতে নিয়ে গেছিল, সেই পুলিশের বন্দুক কেড়ে নিয়েছে!

তিনি বলেন, আরও অবাক লাগছে একজন নেশাখোর ভ্যানওয়ালা কেবল পুলিশের বন্দুক কেড়ে নিল তা নয়, এক রাউন্ড গুলিও চালিয়ে দিল। আমাদের পুলিশের তাহলে কী হাল! তিনি আরও বলেন, এই পুলিশ কী করবে? তারা কীভাবে মোকাবিলা করবে?

তিনি এনকাউন্টারকে ‘উত্তরপ্রদেশ মডেল’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মহুয়া লিখেছেন, ‘বারুইপুর ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে নিহত হলেন! পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কী হচ্ছে এসব? বাঙালিরা, নতুন বাংলাকে স্বাগত জানান, উত্তর প্রদেশ ২.০। এটা কোনও সরকার নয়, এটা জঙ্গলরাজ।

কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের সভানেত্রী প্রিয়াঙ্কা চৌধুরি করে বলেন, ‘আগে বিচার হবে। ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী প্রমাণ আছে, তা প্রমাণ করতে হবে। বিচারব্যবস্থাই ঠিক করবে তার কী সাজা হওয়া উচিত। আমাদের বিচারব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সাজা তো ফাঁসি আছেই।’

সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য এই এনকাউন্টারকে ‘রূপকথার গল্পের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার কথায়, ‘এনকাউন্টার করা হবে, এটা আগে থেকে পরিকল্পনা করা ছিল। এটা সুপরিকল্পিত। যোগীর স্টাইলে মূল সাক্ষীকে মেরে ফেলা।’

এদিকে ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বাংলায় হিংসা-অশান্তির ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে তার সরকার। তিনি বলেছিলেন, ধর্ষকদের সকালে জমা নেবে তার সরকার, আর বিকেলে খরচ করে দিবে।

পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের সময় প্রভাস এক পুলিশ কর্মকর্তার রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে তিনি আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ সুপারের দপ্তরে তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন।

এনকাউন্টার নিয়ে বিজেপি নেতারা পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তাদের বক্তব্য, পুলিশের ওপর হামলা হলে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন এই ঘটনা।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, ‘পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে, পুলিশ তো আর মোয়া ছুড়বে না, গুলিই ছুড়বে।

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘যে দৌরাত্ম্য চলেছিল দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু কোনও অপরাধীকে ছেড়ে রাখা যাবে না।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজ্যে 'এনকাউন্টার' সংস্কৃতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্তকে হত্যা করা হলে তা মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী হতে পারে। ফলে বারুইপুরের ঘটনাও একই বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

এমএমআর

ভারতে মুসলমানদের মসজিদ-বসতি উচ্ছেদ, জামাত-ই-ইসলামি হিন্দের প্রতিবাদ

সীমান্তে অস্থিরতা জিইয়ে রাখার কৌশল ভারতের

কার্যালয়ে তালা দিতে পারবেন, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে নয়: মমতা

থাইল্যান্ডে মিলল প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো ভারতীয় আংটি

রামমন্দিরের পর বদ্রীনাথ ধামে দানের টাকা চুরি

পুরস্কারের গন্ধ পেলেই ছুটে যান মোদি

মমতার তৃণমূল কার্যালয় বিদ্রোহীদের দখলে

বাংলাদেশে তিস্তা প্রকল্প ও চীনা যুদ্ধবিমান কেনার দিকে নজর রাখছে ভারত

খামেনির জানাজায় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ভারত

ভারতের বেঙ্গালুরুতে পাথর ধসে ৭ জনের মৃত্যু