রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ
ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের (এআইএমআইএম) প্রধান ও হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
সোমবার পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বিজনোরে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, রাম মন্দির ট্রাস্টে যদি কোনো মুসলিম সদস্য থাকতেন, তাহলে তাকে এতক্ষণে ‘এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হতো এবং তার বাড়িতে বুলডোজার চালানো হতো।
ওয়াইসি বলেন, ট্রাস্টে যদি একজন মুসলিম থাকতেন, তাহলে তাকে এনকাউন্টারে হত্যা করে এবং তার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে মামলার ইতি টানা হতো। কিন্তু এখনকার অভিযুক্তরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওয়াইসি। তার অভিযোগ, মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাসময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পুলিশ তাদের হেফাজতে নেওয়ার উদ্যোগও নিচ্ছে না।
ওয়াইসির এই মন্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে জোরালো করতালি ও উল্লাস দেখা যায়।
দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপট
উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বর্তমানে যে রাম মন্দির রয়েছে, সেই স্থানেই একসময় দাঁড়িয়ে ছিল ষোড়শ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ। ১৯৯২ সালে হিন্দু উগ্রপন্থীদের হাতে মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় সারা ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ওই স্থানেই রাম মন্দির নির্মাণের পথ সুগম হয়। আড়াই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন। বহু হিন্দুর বিশ্বাস, এটিই ভগবান রামের জন্মস্থান।
তবে ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এই মন্দির এখন অনুদান ও মূল্যবান উপহার আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত এক মাস ধরে অভিযোগ উঠেছে, ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদান ও মূল্যবান উপহার আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে।
এদিকে, ভক্ত ব্রজেশ কুমার আল জাজিরাকে বলেন, আমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। যারা ধর্মের নামে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তারাই সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি, আল জাজিরা
এআরবি