ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী অংশ, যারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে, তারা নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠন করে দলীয় চেয়ারপারসনের পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে এই গোষ্ঠী।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জিকে বহিষ্কার করে। এর পরপরই ঋতব্রতের অনুসারীরা পাল্টা সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয় এবং নিজেদের নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বৈঠকে ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পৌরসভার ৭০ জন কাউন্সিলর অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারপারসন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিদ্রোহীদের মতে, দলীয় কাঠামোর মধ্যে যে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা সমাধানের লক্ষ্যেই এই পুনর্গঠন করা হয়েছে।
ঋতব্রত ব্যানার্জি বৈঠকে বলেন, তৃণমূলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কার্যকরী কমিটি পুনর্গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তার দাবি, সর্বশেষ কমিটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয়েছিল এবং নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তা নবায়ন করা হয়নি। ফলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
বিদ্রোহী শিবিরের একজন নেতা জানান, সংগঠনের বৈধতা ও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থেই জাতীয় নেতৃত্ব পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহের ফলে তৃণমূল কংগ্রেস এখন কার্যত তিনটি পৃথক অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একদিকে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে গঠিত ‘আসল তৃণমূল’। এছাড়া দলের একাংশের কয়েক ডজন লোকসভা সদস্য ইতোমধ্যে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংসদে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং মমতাকে অপসারণের ঘোষণার পর দলটির প্রকৃত নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনি প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবিতে তারা ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি রুপির দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা দলীয় সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
এআরবি