দিল্লিতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিপর্যয়ের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে এখন ব্যাপক ভাঙন। লোকসভা থেকে রাজ্যসভা ও বিধানসভা—সর্বত্রই এক ছবি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন লোকসভার ২০ তৃণমূল এমপি। তারা সরাসরি শাসক জোট এনডিএকে (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স) সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজ্যসভায়ও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ঘাসফুল শিবির। বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। তিনি কেবল রাজ্যসভাই ছাড়েননি, দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের দিনই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। ফলে তার বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
সংসদের পাশাপাশি খোদ বিধানসভায়ও ব্যাপক ভাঙনের মুখে তৃণমূল। বিধানসভায় দলের ৬৪ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন ঋতব্রত। এর ফলে পরিষদীয় দলেও দলের শক্তি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সংসদীয় এবং পরিষদীয়—দুই জায়গায় ধাক্কায় দলের ভেতরে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত ডামাডোল।
দলের এই চরম দুর্দিনে পুরোনো দল কংগ্রেসকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দিল্লিতে শুরু হয়েছে মরিয়া রাজনৈতিক তৎপরতা। গত সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর মঙ্গলবার তিনি ১০ জনপথে গিয়ে সোনিয়ার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। ঠিক তার পরদিনই আসরে নামেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বুধবার সকালে তিনি সোনিয়ার বাসভবনে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দুই নেতার মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
জানা গেছে, মতপার্থক্য ভুলে বিজেপি বিরোধিতায় কীভাবে একজোট হওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। পাশাপাশি বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের এই ব্যাপক ভাঙন নিয়েও কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
২৮ বছর আগে কংগ্রেস ভেঙেই তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন মমতা। এখন প্রবল ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে দল বাঁচাতে তাকে সেই কংগ্রেসেরই শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। অস্তিত্ব রক্ষার এই মরিয়া চেষ্টা রাজ্যের আগামী দিনের রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
সূত্র জানায়, মমতাকে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে সহসভাপতির পদ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন সোনিয়া গান্ধী। অন্যদিকে অভিষেককে সাধারণ সম্পাদকের পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দিল্লি থেকে গতকাল কলকাতায় ফিরেছেন মমতা। তবে এখনো সেখানে রয়ে গেছেন অভিষেক। মমতার রাজনীতি এখন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকেন্দ্রিক। মোদিকে সরাতে মমতা কংগ্রেসের হাত ধরলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তাছাড়া মমতা লড়াকু ও বিরোধী নেত্রী হিসেবে অদম্য মানসিকতার। তাই ভারতের রাজনীতির নয়া সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।