ভারত থেকে মুসলিম বিতাড়নের ডাক দিয়েছে কট্টরপন্থি একটি হিন্দু সংগঠন। একই সঙ্গে তাদের ধর্মান্তরিত করারও আহ্বান জানায় তারা। আর এর জন্য তারা দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছিল। ভারতের গণমাধ্যম কুইন্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর ‘সনাতন রাষ্ট্র শঙ্খনাদ মহোৎসব’ নামের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি। এ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ৬৩ লাখ রুপি তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তবে সরকার বলছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের জন্য এই তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছিল।
গত বছরের এ ঘটনা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় ভারতে। মঙ্গলবার দেশটির কংগ্রেস এ নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করে যে, ওই অনুষ্ঠানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ এবং পণ্ডিত এম এম কালবুর্গির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সনাতন এই সংস্থা জড়িত, যার তদন্ত করছে কর্ণাটক সরকার।
কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও দিল্লি সরকার ভারত থেকে মুসলমানদের বহিষ্কার এবং তাদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার আহ্বান জানিয়ে একটি অনুষ্ঠানে অর্থায়নের যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তার জন্য সরকারের সামনে নিয়ে আসে।
কংগ্রেস মুখপাত্র রাগিণী নায়ক বসোয়া দ্য কুইন্টের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেছেন, ডিসেম্বরে ভারত মণ্ডপে সনাতন সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত সনাতন রাষ্ট্র শঙ্খনাদ মহোৎসব কেন্দ্র এবং দিল্লির পর্যটন মন্ত্রকের সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং বিজেপি মন্ত্রীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সনাতন এই সংস্থাটি একটি হিন্দু চরমপন্থি সংগঠন যার সদস্যদের বোমা বিস্ফোরণ, অবৈধ অস্ত্র জব্দ এবং নরেন্দ্র দাভোলকর ও গোবিন্দ পানসারের মতো কর্মীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত এমন একটি অনুষ্ঠানে, একাধিক বক্তা ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের নির্মূলের জন্য বক্তব্য দিয়েছিলেন।