জ্বালানি ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বর্ণ ক্রয় হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার এই বার্তার পরই সোমবার দেশটির শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই দিনে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মানও ইতিহাসের অন্যতম বড় ধাক্কা খেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক ভারত এর আগে জানিয়েছিল, বৈশ্বিক বাজারে তেলের মূল্য বাড়লেও আপাতত দেশীয় বাজারে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের।
সোমবার দেশটির প্রধান শেয়ারসূচক এনএসই নিফটি-৫০ প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮১৫ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সময়ে বিএসই সেনসেক্স সূচকও প্রায় ১ হাজার ২৭৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৭৬ হাজার ১৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে রুপির দর কমে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৩১ রুপিতে, যা এক দিনের হিসাবে রুপির রেকর্ড পতনের মধ্যে অন্যতম।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিও এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি আলোচনার একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষক অরুণ কেজরিওয়ালের মতে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির মধ্যেও যদি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে না নামে, তাহলে ভারতীয় বাজারে চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
দিনজুড়ে ভারতের অধিকাংশ খাতেই দরপতন হয়েছে। বিশেষ করে স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ শেয়ারে বড় চাপ দেখা যায়। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল ও এইচপিসিএলের শেয়ার ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। একই সঙ্গে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারও ৩ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।
ভ্রমণ ও আতিথেয়তা খাতও ক্ষতির মুখে পড়ে। ইন্ডিয়ান হোটেলস, লেমন ট্রি, চালেট হোটেলস, টমাস কুক এবং যাত্রা অনলাইনের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর শেয়ারও প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে যায়।
সরকারের স্বর্ণ কেনা নিরুৎসাহিত করার বার্তার প্রভাব পড়ে গয়না খাতেও। টাইটান, সেনকো গোল্ড ও কল্যাণ জুয়েলার্সের শেয়ারদরে বড় পতন দেখা গেছে। এছাড়া প্রত্যাশার তুলনায় কম মুনাফা করায় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার শেয়ার কমে যাওয়ায় সরকারি ব্যাংক সূচকেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে সামগ্রিক মন্দাবাজারের মধ্যেও কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে। হুন্দাই মোটর ইন্ডিয়ার শেয়ার প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ত্রৈমাসিক মুনাফা বাড়ার খবরে কৃষি-রাসায়নিক কোম্পানি ইউপিএলের শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
সূত্র: দ্য ডন
এআরবি