পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে একটি মোমো তৈরির কারখানা ও সংলগ্ন গুদামে আগুন লেগে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৪ জন।
সোমবার ভোরে দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার ওই কারখানায় লাগা আগুন মঙ্গলবার দুপুরেও পুরোপুরি নেভানো যায়নি।
হতাহতদের স্বজনদের দাবি, নিখোঁজ ব্যক্তিরা আগুন লাগার সময় গুদাম ও কারখানাতেই ছিলেন। নিখোঁজদের অনেকেরই হয়ত আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে সরকারিভাবে নিখোঁজদের সংখ্যা জানানো হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার দুপুরে এক্স হ্যান্ডেলে ১৪ জন নিখোঁজের একটি তালিকা দিয়েছেন।
দমকল কর্তৃপক্ষের দাবি, সোমবার ভোররাতে দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর এলাকার একটি ডেকোরেটর্সের গুদাম থেকে আগুন লাগে এবং দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গুদাম সংলগ্ন একটি খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের মোমো কারখানায়। ডেকোরেটরের গুদাম ও মোমো কারখানায় প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ ছিল।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে উত্তম সাহা নামের এক ব্যক্তি বলেছেন, তার বোনের স্বামী কৃষ্ণেন্দু সাহা নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি ডেকোরেটর্সের গুদামে কাজ করতেন। বারবার ফোন করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
মৌসুমি হালদার এএনআইকে বলেছেন, ‘ভোর ৩টা নাগাদ আমার স্বামী ফোন করে বলেন যে আমি আর বাঁচব না, তোমাদের কাছে ফেরা হলো না।’
সোমবার সারাদিন রাত চেষ্টার করেও আগুন নেভানো যায়নি। মঙ্গলবার সকালেও আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে।
রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে এসে বলেন, ‘এখানে যে নির্মাণ ছিল, তা কেটে কেটে অনেক জায়গায় ঢুকতে হয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ছিল। রাতে গোডাউনের ভেতরে উত্তাপ ছিল অত্যধিক। সে কারণেই রাতে উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়নি।’
ওই কারখানা ও গুদামে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। সূত্র: বিবিসি বাংলা