হোম > বিশ্ব > ভারত

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ

গাদ্দার জ্ঞানেশ দূর হটো

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা

ছবি: সংগৃহীত।

ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ব্যাপক অনিয়ম এবং প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে।

শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীর দিনে নয়াদিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, কলকাতা ও রাঁচিসহ বিভিন্ন শহরে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দিষ্ট ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে আন্দোলনকারীরা সিইসির পদত্যাগ দাবি করেন।

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে একাধিক বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাকে আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের মিছিল ঠেকাতে এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। ড্রোনে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়।

এরপরও হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের মূল স্লোগান ছিল—গাদ্দার জ্ঞানেশ দূর হটো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি মেট্রোর অন্তত ১১টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশ আম আদমি পার্টির (আপ) নেত্রী আতিশী, সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জয় সিং, সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝাসহ অন্তত ১,১০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করে। আইসা, এসএফআই ও এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

ছবি: সংগৃহীত।

মুম্বাইয়ে পুলিশের অনুমতি না থাকলেও ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ডাকে ‘জেলে ভরো’ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে হাজারো তরুণ-তরুণী অংশ নেন। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি ও গায়ক বিশাল দাদলানিও উপস্থিত ছিলেন। চেন্নাইয়ের রাজরত্নম স্টেডিয়ামের কাছেও একই দাবিতে বিক্ষোভ হয়।

ছবি: সংগৃহীত।

আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার অবিলম্বে পদত্যাগ না করলে গোয়া, বেঙ্গালুরু, পাটনা, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশেও আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপিকে নির্বাচনে সুবিধা দিতেই সরকারবিরোধী ভোটারদের লক্ষ্য করে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভেতরেও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধ ছিল বলে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই অভিযোগকে বিরোধীদের তৈরি ‘মিথ্যা আখ্যান’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে। ভুলবশত কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকলে, চলমান হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় তা পুনরায় যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে বলেও কমিশন জানিয়েছে। তবে কমিশনের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। তারা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ এবং বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

ফের বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৭ শতাধিক

ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপের পরও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চিত

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ, আটক ৫ শতাধিক

কর্ণাটকে ভোটার তালিকা সংশোধনেও নিশানায় মুসলিমরা

বাবরি থেকে উজ্জয়িনী: ভারতে ধর্মীয় স্থানের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ মুসলিমদের

জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে সিআইএসএফের ৪ সদস্য নিহত

ভারতে মুসলিমবিরোধী হেট ক্রাইম বাড়ছে

২৩ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আবদুল বারেক ৪ মাস ধরে নিখোঁজ

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মমতার কঠোর হুঁশিয়ারি

১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ, তীব্র আস্থা সংকটে ভারতের নির্বাচন কমিশন