নিখোঁজ হওয়ার এক মাস পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারল, বয়স্ক তিন ভাইবোনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে ভারতের ওড়িশা পুলিশ। গত ২৪ ডিসেম্বর তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে মুনতাজ খানের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে । গত ২৭ নভেম্বর কেন্দ্রপাড়া জেলা থেকে পুলিশ তাদের আটক করেছিল। নিখোঁজ হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পর পরিবারকে তাদের বিষয়ে জানানো হলো।
পরিবারকে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় পুলিশ জানায়, ৬৩ বছর বয়সি মুনতাজ খান, তার ৫৯ বছর বয়সি ভাই ইনসান খান এবং তাদের ৭০ বছর বয়সি বোন আমিনা বিবিকে ‘যথাযথ যাচাই-বাছাই’ করার পর বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
স্ক্রলের হাতে আসা এক নথিতে বলা হয়, তিনজনকে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার সীমানগরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিন বৃদ্ধ ভাইবোনের বিষয়ে তাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানোর কয়েক সপ্তাহ পর এ তথ্য জানানো হলো।
এর আগে বুধবার স্ক্রল প্রতিবেদন করে, তিনজনকে ভারত থেকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ অফিসার দাবি করেছেন, তিনজনই নিজেদের বাংলাদেশি বলে ‘স্বীকার’ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ওই তিনজন ভারতীয় নাগরিক কি না, তা যাচাই করতে ওড়িশা পুলিশ পশ্চিমবঙ্গ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাংলার কর্তৃপক্ষ দাবি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জারি করা নিয়ম অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষকে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীকে তার নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ৩০ দিন সময় দিতে হবে। সেই সঙ্গে ওই ব্যক্তির নিজ রাজ্যকে দাবি যাচাই করার অনুরোধ জানাতে হবে।
তবে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে এ ধরনের যাচাইকরণের অনুরোধ পাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ওড়িশা পুলিশ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা বা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
গত ২৭ নভেম্বর ওড়িশা পুলিশ বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে গারাপুর গ্রাম থেকে পরিবারের ১২ জন সদস্যকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে মুন্তাজ খানের ছেলে মুখতার খানসহ ৯ জনকে ৯ দিন আটক রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে তিন বৃদ্ধ ভাইবোনকে মুক্তি দেওয়া হয়নি এবং পরে তাদের কলেজের একটি হোস্টেল থেকে নিখোঁজ বলে জানা যায়, যেখানে তাদের আটক করা হয়েছিল।
ভারতীয় নাগরিকত্বের নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের পরে কিন্তু ১ জুলাই, ১৯৮৭ সালের আগে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক বলে বিবেচিত হন।
তবে ওড়িশা পুলিশ দাবি করেছে, মুন্তাজ খান একজন বাংলাদেশি, কারণ তার বাবা ইয়াসিন খান ১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরএ