ভারতে চলতি মাসের শুরুর দিকে সরকারের স্বর্ণ আমদানি শুল্ক দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর দেশটিতে মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদা প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে এমনিতেই ক্রেতারা চাপে ছিলেন, এর ওপর এই শুল্ক বৃদ্ধি গ্রাহকদের আগ্রহে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট খাতের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৭ মে শেষ হওয়া পাক্ষিকে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৫ টনে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ২৫ টন। মূলত গত ১৩ মে থেকে কার্যকর হওয়া এক আদেশে স্বর্ণ আমদানির ওপর শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে ভারত সরকার। পণ্য ও সেবা কর (জিএসটি) মিলিয়ে স্বর্ণের ওপর কার্যকর করের হার এখন ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইবিজেএ) জাতীয় সম্পাদক সুরেন্দ্র মেহতা বলেন, ‘ভারতজুড়ে জুয়েলার্সদের কাছ থেকে আসা তথ্য অনুযায়ী, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পর স্বর্ণের চাহিদা ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংগঠিত খাত, যা মোট স্বর্ণ ব্যবসার প্রায় ৬৫ শতাংশ।’
তিনি আরো জানান, ‘বর্তমানে স্বর্ণ ক্রেতাদের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। এছাড়া এখন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অধিক মাস (হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রায় প্রতি তিন বছর অন্তর (৩২ মাস ১৬ দিন ৪ ঘণ্টা পর পর) একটি অতিরিক্ত মাস যোগ করা হয়।) চলায় সাধারণত এই সময়ে মূল্যবান কোনো কিছু কেনা থেকে বিরত থাকেন তারা।’
স্বর্ণালঙ্কার বিক্রয়কারী চেইন শপ ‘জয়অলুক্কাস’-এর চেয়ারম্যান জয় অলুক্কাস জানান, শুধু উচ্চ শুল্কই নয়, বরং আগামী এক বছর স্বর্ণ কেনা থেকে দূরে থাকার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানও গ্রাহকদের মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলেছে। তাদের প্রতিষ্ঠানেই চাহিদা প্রায় ৩৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চড়া দামের কারণে বর্তমানে অনেক ক্রেতা হালকা ও কম ক্যারেটের গয়না কেনার দিকে ঝুঁকছেন। অপরদিকে নগদ টাকার প্রয়োজনে পুরনো স্বর্ণ বিক্রি করার প্রবণতা গ্রাহকদের মধ্যে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।
বিশ্ব স্বর্ণ পরিষদের (ডব্লিউজিসির) গবেষণা প্রধান কবিতা চাকো বলেন, ‘ছোট খুচরা বিক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের চড়া দামের পর এখন বিক্রি কমে যাওয়া এবং মুনাফার মার্জিন কমে আসার কারণে তারা বাড়তি চাপে রয়েছেন।’
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস
এএম