আয়াজ আহমদ তার মোবাইল ফোনে চ্যাট করছিলেন। উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের হিসার শহরের বাড়িতে বাড়িতে ২৮ বছর বয়সি আয়াজ শাল ও হাতে তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ফেরি করেন। ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের আরো হাজার হাজার ব্যবসায়ীর মতোই তিনি জীবিকার তাগিদে এখানে এসেছেন।
কিন্তু ভারতজুড়ে কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ঘৃণামূলক আক্রমণের জেরে তারা এখন পুরোনো অবস্থা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন। শীতের মৌসুমে ভারতের শহরে শহরে শাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামের ঝোলা নিয়ে কাশ্মীরি বিক্রেতাদের পণ্য বিক্রির পুরোনো চিত্র এখন আর দেখা যায় না।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অন্য সদস্যদের আয়াজ নির্দেশনা দিচ্ছেন কোন কোন সড়ক এড়িয়ে চলতে হবে। অন্য সদস্যরাও তাদের অবস্থা এ গ্রুপে শেয়ার করছেন।
আল জাজিরাকে আয়াজ বলেন, ‘আমি তাদের নির্দেশনা দিচ্ছি কোথায় যাবে এবং কোন এলাকা এড়িয়ে চলবে। কেননা, কিছু এলাকার অবস্থা স্বাভাবিক হলেও অন্য এলাকায় আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এখন ব্যবসার থেকে নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকারের বিষয়। কেননা, প্রতিদিনই আমাদের হয়রানি করার ঘটনা ঘটছে।’
গত মাসে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দেরাদুনের বিকাশনগরে এক হিন্দু দোকানদার ১৮ বছর বয়সি কাশ্মীরি শাল বিক্রেতা তাবিশ আহমদ গনিকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। ওই ঘটনার পর আয়াজ এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলেন।
ঘটনার ভাইরাল এক ভিডিওতে ওই দোকানদারকে বলতে শোনা যায়, ‘এটি হিন্দু গ্রাম। কাশ্মীরি মুসলমানরা এখানে কোনো কাজ করতে পারবে না।’
ভিডিওতে তাবিশকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অপরদিকে তার বড় ভাই দানিশও হামলার শিকার হয়েছিলেন।
আহত তাবিশকে তার মাথা ও বাম হাতে ১২টি সেলাই দিতে হয়েছে। পায়ে আঘাতের কারণে এখনো তিনি হাঁটতে পারেন না। আল জাজিরাকে তিনি জানান, ওই দোকানদারের সঙ্গে আরো দুজন তাদের ওপর হামলা করেছিল।
বর্তমানে কাশ্মীরের কুপওয়ারায় নিজ বাড়িতে রয়েছেন তাবিশ। তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই করিনি। শুধু কাশ্মীরি মুসলমান হওয়ায় আমার ওপর হামলা করা হয়েছে।’
তাবিশের ওপর এ হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ভারতজুড়ে কাশ্মীরি ব্যবসায়ী ও অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি ধারাবাহিক ঘৃণার প্রকাশই এটি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উগ্র রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল বিজেপির প্রচারণার জেরে এ ঘৃণার পাহাড় তৈরি হয়েছে। এই প্রচারণায় কাশ্মীরিদের ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘পাকিস্তানের চর’ হিসেবে চিত্রায়ণের পাশাপাশি ভারতের জন্য তাদের ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।