অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রচলিত আইন ভেঙে ইসরাইলি উগ্র জাতীয়তাবাদীদের এক হামলা ও অভিযানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ইসরাইলি পুলিশের নিরাপত্তায় পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ২০০ জন ইসরাইলি অংশ নেয় বলে জানিয়েছে জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ।
ওয়াকফের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৯৯ জন ইসরাইলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। এ সময় কয়েকজনকে ইসরাইলি পতাকা উড়াতে, জাতীয় সংগীত গাইতে এবং তালমুদভিত্তিক ধর্মীয় প্রার্থনা (ইহুদিদের ধর্মীয় গ্রন্থের আলোকে প্রার্থনা) করতে দেখা যায়। এছাড়া তারা ডোম অব দ্য রকের সামনে ছবি তোলাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়, যা ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করেছে।
ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘স্ট্যাটাস কু’ বা বিদ্যমান ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই ব্যবস্থায় মসজিদটি একান্তভাবে মুসলিমদের উপাসনার স্থান হিসেবে স্বীকৃত এবং এর প্রবেশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব জর্ডানের তত্ত্বাবধানে ইসলামিক ওয়াকফের হাতে রয়েছে।
তবে বহু বছর ধরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, ইসরাইল ক্রমেই উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের অনুপ্রবেশ সহজ করে দিচ্ছে, যারা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রার্থনা, নৃত্য এবং পতাকা প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ওমর রাজুব বলেন, আল-আকসা মসজিদের আঙিনায় ইসরাইলি পতাকা উত্তোলন এবং উসকানিমূলক ধর্মীয় আচরণ চরমপন্থী ইসরাইলি সরকারের পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক নীতির অংশ। তার দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া এবং আল-আকসার ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরো বলেন, বসতি স্থাপনকারীদের এসব কর্মকাণ্ড শহরটিকে ‘ইহুদিকরণ’ এবং এর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে ফেলার বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সুরক্ষায় পরিচালিত এসব অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর দায় ইসরাইলি সরকারের ওপরই বর্তায়।
এদিকে অভিযানের সময় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের আল-আকসায় প্রবেশেও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করে ইসরাইলি পুলিশ। কয়েকজন মুসল্লি অভিযোগ করেন, মসজিদের বাইরের ফটকে তাদের পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক দশক ধরে জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি পতাকা প্রদর্শন এবং ইহুদি প্রার্থনা নিষিদ্ধ ছিল। তবে আল-আকসা মসজিদ ভেঙে সেখানে ইহুদি উপাসনালয় নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কিছু উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এসব নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকার আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি প্রার্থনার অনুমতি আরো বেশি করে দিতে শুরু করেছে বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এআরবি