ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মিত্রদের পাশে পাওয়ার চেষ্টা খুব বেশি সফল হবে না। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগে কতটা সাড়া দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক গবেষক মোহসেন ফারখানি।
তিনি আল–জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেবে না। কারণ, দুই দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ।
তেহরান থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফারখানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে চীন ও রাশিয়া এসব নিষেধাজ্ঞায় অংশ নেবে না।’
চীনের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল চীনে রপ্তানি হয়। এ কারণে ইরান চীনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার।
নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বৈশ্বিক বাণিজ্যপথে ইরানের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন ফারখানি। তার মতে, এ ক্ষেত্রে তেহরানের হাতে উল্লেখযোগ্য চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল–মান্দাবেও ইরানের প্রভাব রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরো বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে আঞ্চলিক পর্যায়ে। ফারখানির মতে, দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো দেখছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ছাতা দিতে সক্ষম নয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিশ্বাসযোগ্যতাও কমে গেছে।
ফারখানির ভাষায়, এর ফলে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারিয়েছে।
এই আস্থার সংকট যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমকে সরাসরি দুর্বল করে দেবে বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেবে না। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত একতরফা পদক্ষেপ হিসেবেই থেকে যাবে।
ফারখানি বলেন, ‘এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে খুব একটা লাভ হবে না। কারণ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেবে না। ফলে নিষেধাজ্ঞাগুলো একতরফাই থেকে যাবে।’
এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্রদের সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
এএম