সিরিয়ার ভেতরে ইসরাইল সীমান্ত থেকে অনেক দূরের এবং তুরস্ক সীমান্তের কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ কারণে, শুধু সিরিয়া বা তুরস্কের কাছে থেকেই নয় পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকেও কঠোর নিন্দা পেয়েছে ইসরাইল। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি’ আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কোনো ভূমিকা রাখে না; বরং ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনাকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
সোমবার রাতে সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান। ঘাঁটিটি তুরস্ক সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৫ মাইল দূরে এবং ইসরাইল থেকে প্রায় ১৮০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। হামলার পর প্রথমে দায় স্বীকার না করলেও পরে ইসরাইল তা স্বীকার করে নেয়।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, তুরস্ক তাদের বর্তমান অবস্থানের দক্ষিণে ওই বিমানঘাঁটিতে সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিল। এ বিষয়ে আগে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। তাই নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
হামলার ঘটনাকে ঘিরে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে কথার লড়াইও তীব্র হয়েছে। নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেন। জবাবে এরদোয়ানের দপ্তর এটিকে নেতানিয়াহুর আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের ‘সস্তা রাজনৈতিক কৌশল’ বলে মন্তব্য করে।
পিবিএস নিউজআওয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টম ব্যারাক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়। এর জন্য উত্তেজনা কমানো, সংলাপ বাড়ানো এবং আকস্মিক সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা জরুরি।
ব্যারাক বলেন, ৭ই অক্টোবরের পর সবকিছু বদলে গেছে। আমরা, ইসরাইল, আমাদের এবং ইরানের মধ্যে একটি স্পষ্ট দৃষ্টিসীমা চাই এবং আমরা আপনাদেরকে আমাদের মাঝে প্রতিরক্ষামূলক বা আক্রমণাত্মক সামরিক সরঞ্জাম বা লোক না রাখার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করছি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার আগে কয়েক দিন ধরে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে ওই এলাকায় সম্ভাব্য তুর্কি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাচ্ছিল। সিরিয়া পরে মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, সেখানে কোনো তুর্কি সেনা, সামরিক বহর বা অস্ত্র নেই এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে শুক্রবার সিরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোসাদ প্রধানের গোপন আলোচনা হয় এবং পরের সপ্তাহে আবার বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রও প্রয়োজনে আলোচনা অব্যাহত রাখতে একটি সমন্বয় কাঠামো তৈরি করেছিল। কিন্তু চলমান সংলাপের মধ্যেই ইসরাইল বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়।
ব্যারাক বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ তিনি বুঝতে পারেন। তবে তুরস্কের মতো শক্তিশালী সামরিক শক্তিকে আগাম না জানিয়ে তাদের সীমান্তের প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে হামলা চালানো পরিস্থিতিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে হামলার আগে সিরিয়া বা তুরস্ক ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্বেষপূর্ণ বা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছিল। তুরস্কও প্রকাশ্যে বলেছে, তারা ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যেতে চায় না এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সিরিয়ার পক্ষে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতে, এ হামলা পারস্পরিক আস্থা তৈরির প্রক্রিয়ায় একটি ধাক্কা। তবে তিনি আশা করছেন, সব পক্ষ আবার আলোচনার টেবিলে ফিরবে এবং সংলাপের মাধ্যমেই ইসরাইল-তুরস্কের এই উত্তেজনা প্রশমিত করা সম্ভব হবে।
এমএমআর