ইরানের একটি কৌশলগত স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারে।
ট্রাম্পের এই হুমকি নতুন নয়। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝিও তিনি একই ধরনের কথা বলেছিলেন। তখন ‘হিউ হিউইট শো’তে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করতে যাচ্ছি। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন..., আমরা সম্ভবত খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাব।’
ট্রাম্পের হুমকির কেন্দ্রে থাকা এই স্থাপনা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধবিষয়ক বিশ্লেষকেরা সন্দেহ করে আসছেন।
স্থানীয়ভাবে ‘কুহ-ই কোলাং গাজ লা’ নামে পরিচিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছে অবস্থিত। নাতাঞ্জ স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভেতরে গভীরভাবে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স।
এই স্থাপনায় খননকাজ শুরু হয় প্রায় ২০২০ সালে। পরে শক্ত গ্রানাইট পাথরের কয়েকশ মিটার নিচে কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়। এত গভীরে অবস্থানের কারণে স্থাপনাটি ধ্বংস করা কঠিন বলে মনে করা হয়।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধবিষয়ক বিশ্লেষকদের সন্দেহ, পাহাড়ের ভেতরে ইরান একটি অঘোষিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র তৈরি করছে।
তাদের ধারণা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য এটি একটি ‘কৌশলগত বিকল্প’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
তবে ইরান বরাবরই ভিন্ন দাবি করে আসছে। দেশটির বক্তব্য, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের স্থাপনাটি শুধু সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থাপনাটির গভীরতা নিয়ে অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো এত গভীরে তৈরি করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মজুত থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী বাংকার-বিধ্বংসী গোলাবারুদ দিয়েও সেগুলো ধ্বংস করা সম্ভব নাও হতে পারে।
এই কারণেই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ঘিরে ট্রাম্পের নতুন হুমকি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাহাড়ের কয়েক শ মিটার গভীরে থাকা স্থাপনাটি কীভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এএম