হামলায় সহায়তা না করলে কোনো দেশের ইরানকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই: তেহরান
ইরানকে নিয়ে দেশগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই, যদি না তারা দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত পক্ষগুলোকে তাদের ঘাঁটি, স্থাপনা বা সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।
সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা বলেন। পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইউরোপীয় দেশগুলো আবার ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে অংশ নিলে ইউরোপের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন খবর প্রকাশের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাঘাই বলেন, বুলগেরিয়া থেকে কয়েকটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান চলে যাওয়ার খবরও তারা শুনেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে তৃতীয় কোনো দেশের সহায়তা নিয়ে তেহরানের কঠোর সতর্কতা এবং স্থানীয় বিক্ষোভের মধ্যেই বিমানগুলো ইউরোপীয় দেশটি ছেড়ে গেছে বলে খবরে বলা হয়।
তিনি বলেন, বুলগেরিয়ার বিষয়ে ইরান আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। শুরু থেকেই বুলগেরিয়ার জনগণ ও রাজনীতিকদের একটি অংশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে বর্ণনা করেছেন।
বাঘাই বলেন, ‘বুলগেরিয়ার জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’ তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে লক্ষ্য করে চালানো নৃশংসতায় অংশ নেওয়াকে তিনি আগ্রাসনের শামিল বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, যেসব দেশ কোনো না কোনোভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট শাসকগোষ্ঠীকে’ তাদের ঘাঁটি ও স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে, তারাও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তেহরান আশা করে।
সহযোগীকারীদের কঠোর বার্তা
বাঘাই বলেন, কোনো দেশেরই ইরানকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই, যদি না তারা ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ ও বেআইনি হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে আগ্রাসনকারীদের তাদের ঘাঁটি, স্থাপনা ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে থাকে।
নিজ ভূখণ্ডে হামলার উৎসস্থলের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বাঘাই বলেন, ‘আমরা যেমনটি দেখিয়েছি, ইরানের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাব না।’
সূত্র: প্রেসটিভি
এমএমআর