হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের বিদায়, মোতায়েন হচ্ছে ইউরোপীয় বাহিনী

আল-জাজিরা

ছবি: রয়টার্স

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের বিদায়ের পর দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন হচ্ছে ইউরোপীয় বাহিনী

দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউএনআইএফআইএলের ম্যান্ডেট শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর এর ম্যান্ডেট শেষ হবে। এরপর বাহিনীটির প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নিরাপত্তাশূন্যতা মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি নতুন মিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

ইইউর কূটনৈতিক সংস্থা ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) তিন বছরের একটি সামরিক ও বেসামরিক মিশনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর লক্ষ্য হবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীকে (আইএসএফ) পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া। সীমান্ত ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাও এর আওতায় থাকবে।

ইইউ কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ইউএনআইএফআইএলকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করা নয়। বরং লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য।

লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা চলছে। দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখলে রয়েছে। এখনো প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত। এমন পরিস্থিতিতে আয়ারল্যান্ডে চলতি সপ্তাহে ইইউর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে লেবানন আলোচনায় আসতে পারে।

ইউরোপীয় মিশন নিয়ে সংশয়

ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস মে মাসে বলেছিলেন, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করতে ইউরোপীয়রা একটি মিশন গঠনে প্রস্তুত। তবে ইউএনআইএফআইএলের পুরো দায়িত্ব নিতে নতুন ইউরোপীয় মিশন পাঠানোর বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের হামলার কয়েক দিন পর ১৯৭৮ সালের ১৯ মার্চ ইউএনআইএফআইএল গঠন করা হয়। ২০০৬ সালে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধের পর এর দায়িত্ব আরো বাড়ানো হয়।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং দক্ষিণ লেবাননে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর মোতায়েনে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউএনআইএফআইএলকে।

তবে বাহিনীটির ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ছিল। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন তৈরি ও সহযোগিতা করতে পারত। কিন্তু ইসরাইলকে প্রত্যাহারে বাধ্য করা বা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার ক্ষমতা তাদের ছিল না।

ইসরাইলের অভিযোগ, ইউএনআইএফআইএল ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরই ইউএনআইএফআইএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চাপ বাড়ে।

নতুন বাহিনীর ক্ষমতা কতটা?

ইউএনআইএফআইএলে কাজ করা এবং ইউনিভার্সিটি অব গ্যালওয়ের আইরিশ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের অধ্যাপক রেমন্ড মারফির মতে, নতুন ইউরোপীয় বাহিনীকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা বা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

তার মতে, বাহিনীটির মূল কাজ হতে পারে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। তবে নিজেদের সুরক্ষা ও দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। এর মধ্যে অবাধ চলাচল এবং নিজেদের এলাকায় অস্ত্রের চলাচল ঠেকানোর সক্ষমতাও থাকতে পারে।

ইউরোপীয় মিশনই অবশ্য একমাত্র বিকল্প নয়। ইউএনআইএফআইএলের পরবর্তী ব্যবস্থা নিয়ে জাতিসংঘও পরিকল্পনা করছে। একটি প্রস্তাবে জাতিসংঘের ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশনকে সীমিত দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জুনে নিরাপত্তা পরিষদের সামনে তিনটি বিকল্প দেন। এসব প্রস্তাবে ৯০০ থেকে ৩ হাজার সেনা রাখার কথা বলা হয়। জুনে ইউএনআইএফআইএলে সেনা ছিল প্রায় ৭ হাজার।

ইউএনআইএফআইএল চলে গেলে শূন্যতা

লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমাদ সালামেয়ি আল জাজিরাকে বলেন, ইউএনআইএফআইএল চলে যাওয়ার পর সাময়িক নিরাপত্তাশূন্যতা তৈরির ঝুঁকি ‘বেশ গুরুতর’।

তার মতে, এতে ইসরাইল সুবিধা পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক কোনো বাহিনী না থাকলে ইসরাইল এমন একটি ব্যবস্থা চাইতে পারে, যেখানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে আরো সরাসরি সমন্বয় করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে মধ্যস্থতাকারী বা নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

এতে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে পর্যবেক্ষণের বদলে লেবাননের বাহিনী ও লেবাননের ভূখণ্ড দখল করে থাকা ইসরাইলি বাহিনীর দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন সালামেয়ি।

তিনি বলেন, ইউএনআইএফআইএল চলে যাওয়ার পর তৈরি হওয়া বিকল্প ব্যবস্থা স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। এতে পরে নতুন কোনো শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা আরো কঠিন হবে।

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এসব আলোচনা ইসরাইলের হামলা ও লেবাননের ভূখণ্ডে তাদের অবস্থান বন্ধ করতে খুব বেশি কার্যকর হয়নি।

ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েন হলেও ইসরাইলের অবস্থান বদলাবে বা তারা লেবানন থেকে সরে যাবে—এমনটা মনে করেন না মারফি।

তার মতে, এতে ইউরোপীয় বাহিনীর জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে।

আসল সংকট রাজনৈতিক সমঝোতায়

জুনের শেষ দিকে ইসরাইল ও লেবানন একটি কাঠামোতে সম্মত হয়। এর আওতায় ‘পাইলট জোন’ তৈরির কথা বলা হয়। এসব এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী সরে যাবে। সেখানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। হিজবুল্লাহর ফিরে আসা ঠেকানোও এর অংশ।

আগস্টের শুরুতে রোমে এ নিয়ে আলোচনা হয়। তবে ‘পাইলট জোন’ সম্প্রসারণের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।

এ কারণে সম্ভাব্য ইউরোপীয় মিশনের সাফল্য শুধু বাহিনীর ওপর নির্ভর করবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা। শান্তিরক্ষী বাহিনী কোন দেশের হবে, তার চেয়ে তাদের উপস্থিতির শর্ত কী হবে—এ বিষয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সালামেয়ির মতে, দুই পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া কোনো বাহিনী মোতায়েন করা হলে ইউএনআইএফআইএলের মতো একই সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারে।

ইসরাইল যদি লেবাননে অভিযান চালিয়ে যায় এবং দেশটির ভেতরে সেনা রাখে, আর হিজবুল্লাহ যদি বিদ্যমান কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে ইউরোপীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা দ্রুত প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

পারস্পরিক অঙ্গীকার, সম্মত নিয়ম এবং বাস্তবসম্মত প্রয়োগব্যবস্থা ছাড়া ইউএনআইএফআইএলের বদলে ইউরোপীয় মিশন আনা হলে নাম বদলালেও পুরোনো সমস্যাই ফিরে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সালামেয়ি।

এএম

শ্রীনগরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ১০

মক্কা চুক্তি, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও বাংলাদেশ

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ চায় জামায়াত

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, যুবদল কর্মী আটক

সুনামগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

মোংলায় ৫০ কেজি গাঁজা জব্দ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ভারত

নীলফামারীতে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের চেয়ে অর্ধেকেরও কম খরচে মিলছে চীনের জে-১০ যুদ্ধবিমান

‘ফুটপাতে ফের বসলে প্রয়োজনে গ্রেপ্তার’