গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়। একই সঙ্গে গাজার পুলিশ সদস্য ও স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার ধারাবাহিকতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় ইসরাইলি হামলার সংখ্যা মাঝে মাঝে কমলেও উপত্যকাটির বেসামরিক মানুষ এখনো নিয়মিত, অনিশ্চিত ও প্রাণঘাতী হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
জাতিসংঘের কার্যালয় জানিয়েছে, শুধু ১৩ থেকে ১৯ আগস্টের মধ্যে গাজায় অন্তত ২২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ড ‘যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
গাজার পুলিশ সদস্য ও স্থাপনায় হামলার ধারাবাহিকতাকেও ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়।
বুধবার গাজা সিটির পৌর পুলিশের সদর দপ্তরে ইসরাইলি হামলার কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। ওই হামলায় আট পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরী নিহত হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গাজাজুড়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ১৮টি ইসরাইলি হামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব হামলায় ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয় শিশু ও চার নারী রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা বেসামরিক ব্যক্তি হিসেবে সুরক্ষিত। তবে তারা সরাসরি ও সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিলে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের কার্যালয়।
ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রধান আজিত সুনঘাই বলেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় ইসরাইলের চলমান হামলার ক্ষেত্রে কোনো ‘সামরিক প্রয়োজনীয়তা’ দেখাটা কঠিন। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ, শিশু ও পুলিশ সদস্যরা নিহত ও আহত হচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, জীবনধারণের অধিকার সবার জন্য মৌলিক অধিকার। কিন্তু গাজায় মনে হচ্ছে মানবাধিকারের প্রতি আর কোনো সম্মান অবশিষ্ট নেই। প্রতিদিনই সেখানে মৃত্যু, আহত হওয়া ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে।
এএম