মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে চারটি নির্বাচনের ফল ইসরাইলের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সার্বিয়া ও ব্রাজিলে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তির পরাজয়, ইসরাইলের নিজস্ব নির্বাচনে সরকার গঠনের অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ছে দেশটি।
বিশেষ করে অস্ত্র সরবরাহ, সামরিক সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এবং গাজা ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন ইসরাইলের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। চার নির্বাচনের ফল আলাদা আলাদা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রতিফলন হলেও সম্মিলিতভাবে তা ইসরাইলের কূটনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
সার্বিয়ায় ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভুসিচের পরাজয়
চার নির্বাচনের মধ্যে প্রথম ধাক্কাটি আসে ২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায়। দেশটির আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচের নেতৃত্বাধীন জোটকে পরাজিত করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’।
সার্বিয়ার নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে স্টুডেন্ট লিস্ট পেয়েছে ১৪০টি আসন। অন্যদিকে ভুসিচের জোট পেয়েছে ১০৩টি আসন। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের এই জোটের বিজয় দেশটির দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা।
ইসরাইলের জন্য এই পরাজয়ের গুরুত্ব আলাদা। ভুসিচকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু সার্বিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করে ভুসিচকে ইসরাইলের ‘প্রকৃত বন্ধু’ বলেছিলেন।
গাজা যুদ্ধের পর পশ্চিমা কয়েকটি দেশ ইসরাইলের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের যন্ত্রাংশ বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও সার্বিয়া সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরাইল সার্বিয়ার কাছে গোলাবারুদ চেয়েছিল। ভুসিচের সম্মতিতে ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলা ইসরাইলে পাঠানো হয়।
দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক ছিল দ্বিমুখী। ২০২৫ সালের আগস্টে সার্বিয়া ইসরাইলের কাছ থেকে ১৬০ কোটি ডলারের ড্রোন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার চুক্তি করে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে দুই দেশ কৌশলগত সংলাপ শুরু করে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বেলগ্রেডে ইসরাইলি নকশায় তৈরি ড্রোন সংযোজনের একটি কারখানাও উদ্বোধন করেন ভুসিচ।
কিন্তু নির্বাচনে জয়ী শিক্ষার্থী জোট যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে গাজা নিয়ে ইসরাইলের সামরিক অভিযানেরও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে নতুন সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা কতটা অব্যাহত রাখবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ব্রাজিলে নেতানিয়াহুর পছন্দের প্রার্থীকে হারিয়ে লুলার প্রত্যাবর্তন
সার্বিয়ার নির্বাচনের দিনই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে জয় পান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তিনি ডানপন্থি ও ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করেন।
ব্রাজিলের লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ৮০ বছর বয়সী লুলা।
প্রথম দফার ভোটে অবশ্য এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও। ৪ অক্টোবরের নির্বাচনে তিনি ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে লুলার ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ ভোটের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ব্যবধান ঘুরিয়ে দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন লুলা।
ইসরাইলের জন্য এই ফলাফল কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ফ্লাভিওর বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। তার শাসনামলে ২০১৯ সালে জেরুজালেমে ব্রাজিলের একটি বাণিজ্য কার্যালয় খোলা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতাও জোরদার হয়েছিল। জাতিসংঘে ইসরাইলের পক্ষে ব্রাজিলের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছিল।
২০২২ সালে জইর বলসোনারোকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসেন লুলা। এরপর ইসরাইলের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্রাজিল সমর্থন দেয়। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে হলোকাস্টের সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্যও দিয়েছিলেন লুলা। একপর্যায়ে ইসরাইল থেকে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করা হয়।
এবার ফ্লাভিও জয়ী হলে তার বাবার সময়কার নীতিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু লুলার জয় সেই সম্ভাবনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দক্ষিণ আমেরিকায় ইসরাইলের কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর যে প্রত্যাশা ছিল, তা আরো কঠিন হয়ে গেল।
নিজ দেশেও সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন না নেতানিয়াহু
বিদেশে মিত্রদের পরাজয়ের পাশাপাশি নিজের দেশেও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল লিকুদ সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী বা পরিবর্তনপন্থী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।
লিকুদ একক দল হিসেবে ২৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বড় দল হয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন পিছিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা বেশি হলেও তাদের মধ্যেও সরকার গঠনের মতো একক ঐকমত্য নেই। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনের ফলকে উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে। নেতানিয়াহু বলতে পারছেন, তার দলই সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে এবং তার জোট প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের চেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, নেতানিয়াহুর বাইরে থাকা দলগুলো পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে।
এই অচলাবস্থা ইসরাইলের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ক্ষত, গাজা যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে দেশটির প্রয়োজন ছিল শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সরকার। কিন্তু নির্বাচনের ফল সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
এ ছাড়া সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুকে ধর্মীয় কট্টরপন্থি দল কিংবা আরব দলগুলোর সমর্থন নিতে হলে নির্বাচনের আগে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে হতে পারে। এতে নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ইসরাইলের নির্বাচনের ফল দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও ধাক্কা, জয় ডেমোক্র্যাটদের
চার নির্বাচনের সর্বশেষ ধাক্কাটি আসে যুক্তরাষ্ট্রে। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই জয় পেয়েছে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
ইসরাইলের জন্য এই ফলাফলের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক মিত্র। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলের প্রতি দ্বিদলীয় সমর্থন থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশের মধ্যে ইসরাইল বিরোধী মনোভাব জোরালো হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মিশিগান থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। তিনি ইসরাইলকে মার্কিন সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করে প্রচার চালিয়েছেন। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন তিনি।
ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বার্নি স্যান্ডার্সের নেতৃত্বাধীন ইসরাইল বিরোধী অংশ এবার আরো শক্তিশালী হয়েছে। এল-সায়েদের মতো নতুন প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আগামী দিনে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি, সামরিক সহায়তা এবং ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে কংগ্রেসে বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে।
তবে উদ্বেগ শুধু ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে নয়। রিপাবলিকান শিবিরের একাংশও নির্বাচনে দলের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েলের ভূমিকার সমালোচনা করছে।
নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া কিছু ভোটার এবার চারটি কারণে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। কারণগুলো হলো—ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মনোযোগ দেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।
রিপাবলিকানদের একাংশের যুক্তি, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে, এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বেড়েছে। আর এই যুদ্ধের সঙ্গে ইসরাইলের সংশ্লিষ্টতাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কংগ্রেসে ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কঠিন বিতর্কের আশঙ্কা রয়েছে। নতুন কংগ্রেস আগামী ৩ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবে। তখন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প থাকলেও আইনসভায় ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করবে।
চার নির্বাচনের ফল কি ইসরাইলের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ইঙ্গিত?
হার্ব কেইননের বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য হলো, এই চার নির্বাচনের ফলকে শুধু চারটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। এগুলোর সম্মিলিত প্রভাব ইসরাইলের কূটনৈতিক অবস্থান, সামরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর পড়তে পারে।
সার্বিয়ায় ভুসিচের পরাজয়ে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহযোগিতা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ব্রাজিলে লুলার প্রত্যাবর্তনে দক্ষিণ আমেরিকায় ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাওয়ার সম্ভাবনা কমেছে। নিজ দেশে নেতানিয়াহু সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শক্তিশালী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের জয় ইসরাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের আইনসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।
তবে এই চার নির্বাচনের কোনোটিই সরাসরি ইসরাইলকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়নি। সার্বিয়া ও ব্রাজিলের ভোটে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়গুলোই ছিল প্রধান। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনেও অর্থনীতি, ইরান যুদ্ধসহ নানা বিষয় কাজ করেছে। অর্থাৎ নির্বাচনের ফলকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সরাসরি জনরায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এসব ফলের মাধ্যমে দেশটির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা যায়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন ইসরাইলের নেতৃত্ব নিয়ে। বিদেশে মিত্রদের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হচ্ছে, ওয়াশিংটনে ইসরাইল নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে, আর নিজের দেশেও সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ইসরাইলে স্থিতিশীল সরকার গঠন করা নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, নতুন মার্কিন আইনপ্রণেতারা ইসরাইলের সামরিক সহায়তা ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে আলোচনা শুরু করলে তখন ইসরাইলের পক্ষ থেকে কার্যকর কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার জন্য একটি শক্তিশালী সরকারের প্রয়োজন হবে।
চার নির্বাচনের ফল তাই ইসরাইলের জন্য কেবল সাময়িক রাজনৈতিক ধাক্কা নয়; বরং আন্তর্জাতিক মিত্রতা, অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ কূটনীতির ক্ষেত্রে বড় সতর্কবার্তা।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, এন১ সার্বিয়া, এজেন্সিয়া ব্রাজিল, কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস, এভরি সিআরএস রিপোর্ট, সিবিএস নিউজ ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট