সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বেসামরিক মানুষের ওপর প্রাণঘাতী বিমান হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে নয়জন সাবেক সামরিক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন জেনারেল রয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
সিরিয়ায় ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত তার অনুগত সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও জনবসতিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালায়। পরে দেশটিতে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে।
নতুন কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী পশ্চিমাঞ্চলীয় লাতাকিয়া এলাকায় কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ওই নয় সাবেক সামরিক পাইলটকে আটক করে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা সিরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আটক তিন জেনারেল হলেন—মেনহেল আনোয়ার সালেহ, সামি ইব্রাহিম মাহমুদ ও গিয়াথ আলি রেহিয়ে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের পরিচালিত বিমান হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। এসব হামলায় শহর ও গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। ধ্বংস হয় অসংখ্য বসতবাড়ি ও বেসামরিক স্থাপনা।
আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ সাবেক নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য ও কর্মকর্তাকে আটক করেছে। এসব ঘটনার বিচারিক কার্যক্রম গত এপ্রিল থেকে শুরু হয়।
এর আগে সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এক সাবেক জেনারেলকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। তার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযান পরিচালনা এবং ১৯৮২ সালের হামা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালের ওই আন্দোলন পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
এদিকে, গত আগস্টে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ গৃহযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত নৃশংসতার অভিযোগে আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আরও পাঁচ সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। নতুন সরকারের আমলে এটি ছিল এ ধরনের প্রথম রায়।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়া ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান বাশার আল-আসাদ। বর্তমানে তিনি দেশটিতেই অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়।
সূত্র: বাসস
এআরবি