এই বছরের শুরু থেকে সৌদি আরব রেকর্ড ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বন্ড বিক্রি করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সাথে দেশটি ঋণ ইস্যুতে এখন চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে। তেলসমৃদ্ধ এই দেশটির ঋণ গ্রহণের প্রবণতা স্পষ্টভাবে বেড়েছে, যা অর্থনীতি বৈচিত্র্য আনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভিশন ২০৩০-এর প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সৌদি সরকার সরাসরি ১১.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংগ্রহ করেছে। একই সঙ্গে সৌদি ইলেকট্রিসিটি, সৌদি টেলিকম, সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংক ও রিয়াদ ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ৮.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান সরকারের মালিকানাধীন হলেও শেয়ারবাজার তাদাউলে তালিকাভুক্ত।
সাম্প্রতিক প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, ঋণের চাপ এখন শুধু সরকারের ওপর নয়, বরং রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলোর দিকেও বাড়ছে। ২০২৪ সালে উদীয়মান বাজারে আন্তর্জাতিক ঋণের সবচেয়ে বড় ইস্যুকারী হিসেবে সৌদি আরব চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে, এবং এই ধারা ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে আর্থিক খাতকে প্রধান ভরসা বানিয়েছেন। মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবসা সম্প্রসারণ ও গৃহমালিকানা সহজ করাই এর মূল লক্ষ্য।
ফিনান্সিয়াল টাইমস জানায়, সৌদি ব্যাংকগুলো দ্রুত বিদেশি ঋণের দিকে ঝুঁকছে। যদিও তেলের দাম কম, কম উৎপাদন খরচ ও বড় বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ সৌদি আরবকে এখনো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থানে রেখেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।