অধিকৃত পশ্চিম তীরের তিনটি শরণার্থী শিবির থেকে পুরো জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ এবং তাদের ফিরে আসতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
শুক্রবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত ‘আয়রন ওয়াল’ অভিযানের সময় ইসরাইলি বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের জোরপূর্বক এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনিন, নূর শামস ও তুলকার্ম শরণার্থী শিবিরে চালানো ওই অভিযানে বেসামরিক মানুষ নিহত হন। একই সঙ্গে শত শত বাড়ি ধ্বংস, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি এবং পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ জেনিন শরণার্থী শিবিরের ৫২ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নূর শামস শিবিরে এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ এবং তুলকার্মে ৩৬ শতাংশ। এর ফলে তিন শিবিরের পুরো জনগোষ্ঠীই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ‘আয়রন ওয়াল’ অভিযান যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে যত বেশি সম্ভব ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। তার মতে, এর মাধ্যমে অবৈধ ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের পথ তৈরি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের আরো লঙ্ঘন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ১০২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২১ জন শিশু। ওই সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত মোট ফিলিস্তিনির ৪৬ শতাংশই এই অভিযানের আওতাভুক্ত এলাকায় নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রতিবেদনে এসব কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের নিজ নিজ এলাকায় ফেরার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এআরবি