হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধ থামলেও মৃত্যু থামেনি সিরিয়ায়, এখনো সক্রিয় ৩ লাখ ল্যান্ডমাইন

আমার দেশ অনলাইন

সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের মুসিবিন শহরের একটি মাঠ থেকে মাইন পরিষ্কারের কাজ করছেন হ্যালো ট্রাস্ট এনজিওর একজন সদস্য। ছবি: এএফপি।

যুদ্ধ থেমেছে অনেক আগেই। কিন্তু সিরিয়ায় এখনো প্রতিদিনই প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে লুকিয়ে থাকা ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র। বিশেষ করে বাড়িতে ফিরে আসা শিশু ও সাধারণ মানুষ এসব বিস্ফোরকের সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে উঠছে।

উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তিন ভাই মারাত্মকভাবে হতাহত হওয়ার ঘটনা সেই ভয়াবহ বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনেছে। নিহত হয়েছে ১০ বছর বয়সী মোহাম্মদ। আর তার দুই ছোট ভাই আব্দুল ও আজম চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে।

গত বছর ইদলিবের খান শাইখুন শহরে বাড়ির পাশের একটি খোলা মাঠে খেলছিল তিন ভাই। খেলতে খেলতেই মোহাম্মদ মাটির নিচে আধা-কবর দেওয়া একটি খেলনার মতো বস্তু দেখতে পায়। সেটি খুঁড়ে তুলতে গিয়ে হঠাৎ একটি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন বিস্ফোরিত হয়।

বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এখনো সেখানে একটি বড় গর্ত দেখা যায়। সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স, যাদের হোয়াইট হেলমেট নামেও ডাকা হয়, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শিশুদের উদ্ধার করে ১৫ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

চিকিৎসকদের প্রাণ বাঁচানোর লড়াইয়ের পরও কয়েক সপ্তাহ পরে মোহাম্মদ মারা যায়। বিস্ফোরণে আব্দুল ও আজম উভয়েরই ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদের বাম পা ধাতব ফ্রেম দিয়ে স্থির করে রাখা হয়েছে। আজম একটি চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারিয়েছে।

পরিবারটি তুরস্ক সীমান্তের কাছে একটি অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে প্রায় পাঁচ বছর কাটানোর পর কয়েক মাস আগে বাড়িতে ফিরেছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর তারা এলাকাটিকে নিরাপদ মনে করেছিল।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সিরিয়া জুড়ে প্রায় প্রতিদিনই একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ঘরে ফেরার পর পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করতে গিয়ে অসংখ্য পরিবার ল্যান্ডমাইন ও অবিস্ফোরিত অস্ত্রের মুখে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক এনজিও ইন্টারন্যাশনাল এনজিও সেফটি অর্গানাইজেশন (আইএনএসও) জানিয়েছে, আসাদের পতনের পর থেকে মাইন ও বিস্ফোরকের আঘাতে শিশুসহ ১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত বা পঙ্গু হয়েছে।

ইদলিব এখনো সিরিয়ার সবচেয়ে দূষিত এলাকাগুলোর একটি। একসময় কৌশলগত সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলটি সরকারি বাহিনী ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের সাক্ষী ছিল।

২০১৯ সালে রাশিয়ান বিমান সহায়তায় সরকারি বাহিনী যখন খান শাইখুনে বড় ধরনের হামলা চালায়, তখন একটি ক্ষেপণাস্ত্র মুস্তফা আল-আজরাকের বাড়িতে আঘাত হানে। এতে তার মাত্র ১৮ মাস বয়সী এক ছেলে নিহত হয়।

যুদ্ধ চলাকালে আসাদের বাহিনী তাদের অবস্থানের চারপাশে কর্মী-বিধ্বংসী ও ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী মাইন পুঁতে রাখে। পরে পিছু হটার সময় বাড়িঘর, যানবাহন ও সরকারি ভবনে ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক ডিভাইস এবং বুবি ট্র্যাপ রেখে যায়। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিও নিজেদের মতো করে মারাত্মক বিস্ফোরকের চিহ্ন রেখে গেছে।

সাহায্য সংস্থা হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন জানিয়েছে, গৃহযুদ্ধ শুরুর প্রায় ১৫ বছর পরেও সিরিয়া জুড়ে আনুমানিক তিন লাখ সক্রিয় বিস্ফোরক ডিভাইস ছড়িয়ে রয়েছে।

মোহাম্মদের বাবা মুস্তফা আল-আজরাক বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করেছিলাম এলাকাটি অবশেষে নিরাপদ হয়েছে। যদি জানতাম সর্বত্র ল্যান্ডমাইন লুকিয়ে আছে, তাহলে আমরা কখনোই বাড়িতে ফিরতাম না।’

ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞায় গাজার অপরিহার্য জীবনরেখা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা

বিয়ে শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনের মৃত্যু

বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্রে ইসরাইল আর প্রান্তে রয়েছে আরব রাষ্ট্রগুলো

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে ‘ভালো সূচনা’ বললেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে সৌদি, কিনতে পারছেন যারা

বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, পশ্চিম তীরে ৯০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত

গাজা অভিমুখে আবারও ‘গ্লোবাল সুমুদ’ ফ্লোটিলার ঘোষণা

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা

নতুন বসতি ও সড়ক নির্মাণে জমি হারাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা

উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরে ইরানের অভিযান, ২ জাহাজ আটক